মিডিয়া রিলিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, সভাপতি অমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের চেয়ার আলেক্স মার্শালের তদন্ত চলছে এমন গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই গুজবগুলোকে “অসত্য, গড়ে তোলা এবং কল্পিত” বলে বর্ণনা করে বোর্ড সংশ্লিষ্ট তথ্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভ্রান্ত তথ্যগুলোকে বোর্ডের সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছে। বুলবুলের ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা নষ্ট করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বচ্ছতাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে এই অভিযোগ।
ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের চেয়ার আলেক্স মার্শালও একই রকম মন্তব্য করে বলেছেন যে, সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কোনো ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এমন গুজবের প্রচার কেবল বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি অবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই ধরনের মিথ্যা তথ্যের বিস্তারকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে। গুজবের মাধ্যমে বোর্ডের স্বচ্ছতা ও ক্রিকেটের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা সতর্ক করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুজব ছড়িয়ে দেওয়া সামাজিক মিডিয়া পেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিরপুর পুলিশ স্টেশনে একটি সাধারণ ডায়েরি (General Diary) নং ৩৮৬৭, তারিখ ৩০.০১.২০২৬ দাখিল করা হয়েছে।
এই জিএডি দাখিলের মাধ্যমে মিরপুর পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে গুজবের উৎস সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় তদন্ত চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গুজবের পুনরাবৃত্তি রোধ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়বদ্ধ করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে।
গুজবের মূল বিষয় ছিল বুলবুলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিং সংক্রান্ত কোনো তদন্ত চলছে বলে দাবি করা। তবে এই দাবিগুলো কোনো প্রমাণ ছাড়া সামাজিক মিডিয়ার কিছু পেজে ছড়িয়ে পড়ে।
সেই পেজগুলোতে শেয়ার করা পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বুলবুলের নাম জড়িত একটি গোপন তদন্ত চলছে এবং তা ক্রিকেটের অখণ্ডতাকে ক্ষুন্ন করবে। এই ধরনের তথ্যের কোনো স্বীকৃতি বা যাচাই না করে দ্রুতই তা ভয়াবহ গুজবের রূপ নেয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জোর দিয়ে বলেছে যে, সংস্থার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এমন গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গুজবের মাধ্যমে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও ক্রিকেটের স্বচ্ছতা নষ্ট করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
গুজবের প্রভাব সীমিত রাখতে এবং ভক্তদের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে বোর্ড সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সরাসরি তুলে ধরবে। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে গুজবের উত্স বন্ধ করতে এবং সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট মুছে ফেলতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো অনুরূপ গুজবের পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা বাড়ানোর সংকল্প প্রকাশ করেছে। বোর্ডের এই দৃঢ় অবস্থান ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে যে, বিপিএল সিজনের আসন্ন ম্যাচগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়মের সন্দেহ না থাকলে, পুরো টুর্নামেন্টের অখণ্ডতা নিশ্চিত করা হবে। এই ঘোষণার পর, ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং ক্রিকেটের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে।



