19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতারেক রহমান শহীদ আবু সায়েদের সমাধি পরিদর্শন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

তারেক রহমান শহীদ আবু সায়েদের সমাধি পরিদর্শন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি

রাঙ্গপুরের পিরগঞ্জে আজ সন্ধ্যা ৫:৫৫ টায় বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শহীদ আবু সায়েদের সমাধি পরিদর্শন করেন। তিনি মৃতের ত্যাগকে স্মরণ করে ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। এই সফরটি নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

তারা ববনপুর-জাফরপাড়া গ্রামে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ, সীমান্ত রক্ষী বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রাব) সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা পুরো এলাকায় মোতায়েন করে। গাড়ি প্রবেশের আগে এবং পরেও সশস্ত্র কর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে গশ্বর করে, সমাধি ও পারিবারিক ঘরের আশেপাশে অতিরিক্ত রক্ষী অবস্থান করে।

তারেক রহমান সমাধিতে পৌঁছে প্রথমে প্রার্থনা করেন, তারপর শহীদের বাড়ির সামনে বসে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। উপস্থিত ছিলেন শহীদের পিতা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা, ভাই রমজান আলী, আবু হোসেন এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজন। পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে আলোচনা করেন।

মকবুল হোসেন তারেককে বললেন, “যদি আল্লাহ আপনাকে ক্ষমতায় রাখেন, তবে প্রথমে শহীদ আবু সায়েদ ও জুলাই উত্থানে নিহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন। আহতদের সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করুন, পিরগঞ্জ ও সমগ্র দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন।” এই অনুরোধে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকেও দৃষ্টিপাত করেন।

তারেক রহমান মকবুল হোসেনের কথায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিশ্চিত করেন, যদি বিএনপি শাসনে আসে তবে শহীদ ও অন্যান্য শহীদদের ন্যায়বিচার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি তিনি দেশের সব সেক্টরে উন্নয়নমূলক কাজ চালানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই বক্তব্যকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্বাগত জানিয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন।

শহীদ আবু সায়েদ ১৬ জুলাই ২০২৪-এ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক মর-এ গুলি হেরে নিহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের ছাত্র এবং জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে তার গ্রামীয় বাড়িতে দাফন করা হয়, যা স্থানীয় জনগণের জন্য গভীর শোকের মুহূর্ত ছিল।

পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পুলিশ, বিজিবি ও রাবের দল সমাধি ও পারিবারিক ঘরের চারপাশে ঘনিষ্ঠভাবে তত্ত্বাবধান করে, যাতে কোনো অশান্তি না ঘটে। এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাজনৈতিক নেতাদের জনসমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নির্দেশ করে।

সমাধি পরিদর্শনের পর তারেক রহমান একই এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসা মাঠে গিয়ে উপস্থিত দলের সঙ্গে কথা বলেন। গাড়ি মাঠে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে পার্টির নেতৃবৃন্দ ও সক্রিয় কর্মীরা গাড়ির চারপাশে জড়ো হয়ে স্লোগান গাইতে থাকে। গাড়ির ভিতর থেকে তিনি বলেন, “আমি আপনার এলাকায় বহুবার এসেছি, আপনার সমর্থন ও আস্থা আমার জন্য অমূল্য।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করার ইঙ্গিত দেন।

এই সফরটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি শাসন প্রত্যাশা বাড়াতে এবং শহীদদের স্মৃতি রক্ষার মাধ্যমে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশল হতে পারে। শহীদদের ন্যায়বিচার চাহিদা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উভয়ই দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। শহীদ পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তারেকের এই পদক্ষেপকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেষে উল্লেখ করা যায়, শহীদ আবু সায়েদের ত্যাগ ও তার পরিবারের দাবি এখন দেশের রাজনৈতিক এজেন্ডায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। তারেক রহমানের ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে তা দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র তত্ত্বাবধানের মধ্যে এই সফরটি শেষ হয়েছে, এবং শহীদ পরিবারের সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার পর তিনি গাড়িতে চড়ে প্রস্থান করেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments