মেলবোর্নের রড লেভার আরেনায় রাতের দেরিতে অনুষ্ঠিত পুরুষ একক সেমিফাইনালে ৩৬ বছর বয়সী নোভাক ডজিচেভি জ্যানিক সিন্নারকে পাঁচ সেটে পরাজিত করে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সিটি আলকারাজের সঙ্গে মুখোমুখি হলেন। সিন্নারকে ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ স্কোরে হারিয়ে ডজিচেভি ইতিহাসের নতুন রেকর্ডের পথে অগ্রসর হলেন, যেখানে জয় পেলে তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অর্জন করবেন।
এই ম্যাচটি রাত ১:৩২ টায় শেষ হয়, যা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দেরি শেষ হওয়া ম্যাচগুলোর একটি। ডজিচেভি এবং সিন্নার দুজনই দীর্ঘ সময়ের জন্য কোর্টে লড়াই করে দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিলেন, এবং শেষ পর্যন্ত ডজিচেভি তার অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সহনশীলতা দিয়ে সিন্নারের আক্রমণকে থামাতে সক্ষম হন।
ডজিচেভি, যিনি ৩৮ বছর বয়সী, তার শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনে জিতেছিলেন। এরপর থেকে অ্যালকারাজ ও সিন্নার পুরুষ টেনিসের শীর্ষে অবস্থান করে আসছেন, আর ডজিচেভি এখন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মাধ্যমে ২৪টি শিরোপা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লেজেন্ড মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে সমান হয়ে গেছেন। কোর্ট নিজেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, যা এই ম্যাচকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
সেমিফাইনালের শুরুতে সিন্নার দ্রুত গতি দেখিয়ে ডজিচেভির সেবা ভেঙে ৩-০ লিড নেন এবং প্রথম সেটটি ৬-৩ স্কোরে জয় করেন। তার শক্তিশালী সার্ভ এবং নিখুঁত গ্রাউন্ডস্ট্রোকগুলো প্রথম সেটে ডজিচেভির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।
দ্বিতীয় সেটে ডজিচেভি দ্রুতই সেবা ভেঙে ৩-১ লিড নেন এবং তিনটি ব্রেক পয়েন্ট রক্ষা করে ৪-১ স্কোরে পৌঁছান। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট জিততে থাকেন, শেষ পর্যন্ত ৬-৩ স্কোরে সেটটি জয় করে ম্যাচের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করেন।
তৃতীয় সেটে ডজিচেভি মাঝপথে শ্বাস নিতে শ্বাস নেন, বুকের দিকে হাত রাখেন এবং অল্প সময়ের জন্য সিটে বসে যান। সিন্নার এই মুহূর্তে তিনটি ব্রেক পয়েন্ট পেয়ে ৫-৪ স্কোরে সেটটি জয় করেন, যখন ডজিচেভির লব দীর্ঘ হয়ে যায়। তৃতীয় সেটের শেষের দিকে সিন্নার শীর্ষে উঠে ম্যাচকে সমতা থেকে দূরে সরিয়ে নেন।
চতুর্থ সেটে ডজিচেভি আবার সেবা ভেঙে সিন্নারের ওপর চাপ বাড়ান এবং রাতের অর্ধরাতের পরে স্কোরকে ৬-৪ করে নেন। এই সময়ে উভয় খেলোয়াড়ই শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও উচ্চ মানের টেনিস খেলতে থাকেন, যা দর্শকদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করে।
পঞ্চম এবং শেষ সেটে সিন্নার বারবার ব্রেক পয়েন্ট হারিয়ে দেন, আর ডজিচেভি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট জয় করে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে আধিপত্য বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত ডজিচেভি ৬-৪ স্কোরে পঞ্চম সেট জয় করে ম্যাচটি শেষ করেন এবং ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন।
অন্য সেমিফাইনালে শীর্ষ সিডি অ্যালকারাজ জার্মান তৃতীয় সিডি আলেকজান্ডার জ্ভেরেভকে পাঁচ সেটে পরাজিত করে ফাইনালে স্থান নিশ্চিত করেন। অ্যালকারাজের এই জয়টি তার সাম্প্রতিক ফিটনেস সমস্যার পরেও অর্জিত, যা তার শারীরিক দৃঢ়তা ও মানসিক শক্তি প্রকাশ করে।
ফাইনাল ম্যাচটি রবিবার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ডজিচেভি এবং অ্যালকারাজের মধ্যে শিরোপা নির্ধারণ হবে। উভয় খেলোয়াড়ই টেনিসের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ে তুলতে প্রস্তুত, এবং দর্শকরা এই দুই দিগন্তের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচকে অনুপাতহীন উত্তেজনা হিসেবে প্রত্যাশা করছেন।
ডজিচেভির জন্য এই সুযোগটি তার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অর্জনের সম্ভাবনা এনে দেয়। যদিও বয়স ও সাম্প্রতিক আঘাতের প্রভাব তার পারফরম্যান্সে দেখা যায়, তবে সিন্নার বিরুদ্ধে তার দৃঢ় প্রতিপক্ষতা দেখায় যে তিনি এখনও শীর্ষে ফিরে আসতে সক্ষম। অ্যালকারাজের সঙ্গে ফাইনালে মুখোমুখি হয়ে ডজিচেভি টেনিসের সর্বোচ্চ শিরোপা অর্জনের শেষ ধাপটি পার করতে পারবেন কিনা, তা আগামী রবিবারের ম্যাচে স্পষ্ট হবে।



