19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরানের আইআরজিসি সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্রকে হুমকি জানাল

ইরানের আইআরজিসি সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্রকে হুমকি জানাল

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ হাজি সাদেকি গতকাল তেহরানের একটি সম্মেলনে জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নাগালের মধ্যে আনা হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে কোনো নতুন আক্রমণকে তীব্র ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়ার মুখে ফেলতে ইরান প্রস্তুত।

সাদেকি উল্লেখ করেন, ইরানের সামরিক কাঠামো সম্পূর্ণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং তার শীর্ষ কমান্ডারদের হাত এখন ট্রিগারে। তিনি বলেন, ইরান এখন ভূমি ও সমুদ্র উভয় পথে মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা পূর্বে কল্পনাতীত বলে বিবেচিত হতো।

এই সতর্কতা আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় সম্ভাব্য আক্রমণ এবং ইরানি জলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইরানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বছরই ইরানের তিনটি পারমাণবিক সুবিধায় মার্কিন বোমা হামলা ঘটায় পরিস্থিতি তীব্রতর হয়। সেই আক্রমণগুলোকে ইরানীয় সরকার ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে এবং তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

সাদেকি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে লাভের সন্ধান করার অভিযোগ করেন। তিনি যুক্তি দেন, বিদেশি সমর্থিত দাঙ্গা ও অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরানের প্রকৃত শক্তি কেবল সামরিক সরঞ্জামে নয়, জনগণ ও নেতৃত্বের মধ্যে গড়ে ওঠা অবিচ্ছেদ্য বন্ধনেই নিহিত।

মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা পূর্বে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে থাকায় ওয়াশিংটন এখন কিছুটা পিছিয়ে আছে। এই সতর্কতা ইরানের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, কোনো অতিরিক্ত উত্তেজনা উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল হতে পারে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইরানের এই ধরনের দৃঢ় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে। তারা বলেন, যদি ইরান সত্যিই ভূমি ও সমুদ্র উভয় পথে মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানতে সক্ষম হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গৌণ মিত্রদের কৌশলগত অবস্থানও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

ইরানের এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যে ইরানের অবস্থানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে সক্রিয় রাখতে আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোও তাদের নিরাপত্তা নীতিতে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “ইরানের এই ঘোষণার পেছনে কেবল সামরিক গর্ব নয়, বরং কূটনৈতিক চাপে নিজস্ব অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের এই রকম প্রকাশনা ভবিষ্যতে কোনো সরাসরি সংঘাতের পূর্বাভাস নয়, তবে তা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ইরানের আইআরজিসি প্রতিনিধি আবদুল্লাহ হাজি সাদেকির সতর্কতা ইরানের সামরিক প্রস্তুতি, ক্ষমতা এবং কূটনৈতিক অবস্থানকে একসাথে তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি এবং পূর্বের বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘোষণার প্রভাব অঞ্চলীয় নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপই নির্ধারণ করবে যে এই উত্তেজনা কীভাবে সমাধান হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments