গাজীপুরের কোনাবাড়ি কলেজ ময়দানে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জুমা নামাজের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও মুফতি চরমোনাই পীর, যিনি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম নামেও পরিচিত, দেশ পরিচালনার বর্তমান পদ্ধতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বাস্তবতা নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি গাজীপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা জিএম রুহুল আমিনের সমর্থনে উপস্থিত হয়ে শাসন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী ব্যর্থতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের সত্ত্বেও অর্জিত ফলাফলের ঘাটতি তুলে ধরেন।
পীরের মতে, স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় পাঁচ দশক ধরে দেশের শাসন কাঠামো একই নীতি ও আদর্শে চালিত হয়েছে, তবে তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছেন, অনেকেই শারীরিকভাবে অক্ষম হয়েছেন, এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তবে বাস্তবে শাসনকারী দলগুলো এই মৌলিক স্লোগানগুলোকে কার্যকর করতে পারেনি, ফলে দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার কাঠামোতে বড় ফাঁক রয়ে গেছে।
দুর্নীতি মোকাবিলার উপায় হিসেবে পীর তার দলকে একমাত্র ইসলামিক দল হিসেবে উপস্থাপন করেন, যার প্রতীক হাতপাখা। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে বহু প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা শোনা গিয়েছে, তবে বাস্তবে সেগুলো সম্পন্ন হয়নি এবং নতুন করে দুর্নীতির চক্রে দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাই, তিনি দাবি করেন যে যারা দেশের কল্যাণ ও মানবতার উন্নতি চান, তারা ইসলামিক আন্দোলনের পক্ষে কাজ শুরু করেছে।
পীর আরও উল্লেখ করেন যে দুর্নীতির ঘটনা একবার নয়, বরং বহুবার দেশের শাসন ব্যবস্থায় পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে, অবৈধভাবে সম্পদ সঞ্চয় করে এবং ‘বেগমপাড়া’ নামে অবৈধ নির্মাণ প্রকল্প চালু করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের আর্থিক সম্পদ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং সাধারণ জনগণের মঙ্গলে কোনো অবদান রাখেনি।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে পীরের এই কঠোর সমালোচনা এবং তার দলের ওপর দায়িত্ব আরোপের রণনীতি গাজীপুর-১ আসনের নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যদি তার দাবিগুলো ভোটারদের মধ্যে সাড়া পায়, তবে তা দেশের শাসন পদ্ধতি ও দুর্নীতি মোকাবিলার বিষয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পীরের বক্তব্য দেশের শাসন কাঠামোর দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে এবং ইসলামিক আন্দোলনের ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে জনমত গঠন করার চেষ্টা করেছে। তার এই রূপান্তরমূলক বার্তা গাজীপুরের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন গতিশীলতা যোগ করতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



