জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) আজ বিকেলে ঢাকার লেকশোর হোটেলে ৩৬‑ধারার নির্বাচন ম্যানিফেস্টো উন্মোচন করেছে। পার্টির কনভিনার সাহিদুল ইসলাম এই ঘোষণার মাধ্যমে ভোটের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর এবং ঘণ্টা প্রতি ন্যূনতম মজুরি ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি তুলে ধরেছেন। ম্যানিফেস্টোর মূল থিম “যুব ও গৌরব” হিসেবে নির্ধারিত, যা ভাল শাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্বের নীতির ওপর ভিত্তি করে বিস্তৃত সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।
মোট ৩৬টি মূল বিষয়কে ১২টি শিরোনামের অধীনে গোষ্ঠীবদ্ধ করা হয়েছে; এদের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কার, নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রধান। প্রতিটি শিরোনাম নির্দিষ্ট নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত, যাতে ভোটারদের প্রত্যাশা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের সমন্বয় সাধন করা যায়।
মুখ্য প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে কর সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৃহৎ বিনিয়োগ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, নারীর অধিকার সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন, কৃষিতে সরাসরি ভর্তুকি, ন্যায়সঙ্গত পানির ভাগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি। এসব ধারার মাধ্যমে পার্টি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
সাহিদুল ইসলাম ম্যানিফেস্টোর উদ্বোধনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত পাঁচ দশকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রকৃত গণতন্ত্রের পথে ব্যর্থ হয়েছে; ফলে দমন, অর্থনৈতিক মন্দা এবং জাতীয় মর্যাদার হ্রাস ঘটেছে। তিনি অতীতের ত্রুটিগুলোকে তুলে ধরে বর্তমান সময়ে নতুন রাজনৈতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন, যাতে স্বৈরাচার রোধ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করা যায়।
জুলাই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ঐ আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক পরিসরে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দরকারীয়তা স্পষ্ট করেছে। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্যকে সংস্কারমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়ন হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং পার্টির অবস্থানকে অটল রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এনসিপি ১১টি পার্টির গঠিত জোটের অংশ হলেও, সাহিদুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে এই জোটটি শুধুমাত্র নির্বাচনী জোটের সীমায় সীমাবদ্ধ। সরকারী নীতি কোনো একক পার্টির আদর্শে নির্ভরশীল হবে না; বরং সংস্কার, ন্যায়বিচার, দুর্নীতি বিরোধী এবং আধিপত্যবিরোধী নীতির ভিত্তিতে পার্টিগুলোর ঐক্যবদ্ধ কাজের মাধ্যমে গৃহীত হবে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে এনসিপি স্বতন্ত্র ম্যানিফেস্টো প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই তালিকা সরকারে অংশগ্রহণের শর্তে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর স্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করে, যদিও এটি সকল ক্ষেত্রের পূর্ণাঙ্গ নীতি নয়।
পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ শজিব ভূয়াইন ম্যানিফেস্টোর পেছনে ব্যাপক যুব সমীক্ষা, বিশেষজ্ঞ আলোচনার ফলাফল এবং দেশব্যাপী সেমিনারের তথ্য উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নযোগ্য এবং জনমতকে প্রতিফলিত করে।
এনসিপি এই ম্যানিফেস্টোর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে চায়, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পার্টি উল্লেখ করেছে, যদি সরকারে অংশীদারিত্ব অর্জিত হয়, তবে ম্যানিফেস্টোর ধারাগুলোকে বাস্তবায়ন করে দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোকে রূপান্তরিত করা হবে।



