লস এঞ্জেলেসে গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠান কভার করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ডন লেমনকে ফেডারেল এজেন্টরা গত রাত্রি গ্রেপ্তার করেছে, তার আইনজীবীর মতে। লেমন, যিনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করছেন, লস এঞ্জেলেসের একটি হোটেল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা আটক হন। গ্রেপ্তারির সময় তাকে কোনো হিংসাত্মক আচরণ বা অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
লেমনকে আটক করার সিদ্ধান্তের পেছনে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের একটি বিবৃতি রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছেন এবং গির্জার সেবা ব্যাহত করার মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে লেমনকে সম্ভাব্য অপরাধমূলক দায়ের মুখোমুখি হতে পারে।
লেমনকে প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী এবি লোয়েডের প্রকাশ্য বিবৃতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে লেমন একজন পেশাদার সাংবাদিক, যার কাজ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। লোয়েড উল্লেখ করেন, “ডন লেমন তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংবাদমাধ্যমে কাজ করছেন এবং মিনিয়াপোলিসে তার কাজ কখনোই অপ্রয়োজনীয় নয়।” তিনি আরও যুক্তি দেন যে ফেডারেল এজেন্সিগুলোর উপর তদন্তের পরিবর্তে এই গ্রেপ্তারির দিকে মনোযোগ দেওয়া সত্যিকারের দায়িত্বহীনতা প্রকাশ করে।
লেমনকে গ্রেপ্তার করার আগে, তিনি মিনেসোটা রাজ্যের সেন্ট পল শহরে একটি গির্জা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ওই সমাবেশে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বিরোধী প্রতিবাদকারীরা গির্জার দরজা ভেদ করে প্রবেশ করে সেবা ব্যাহত করেছিল। ঘটনায় গির্জার সদস্য ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ দেখা গিয়েছিল, তবে কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি।
প্রতিবাদে লেমন নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে অবস্থান করিয়ে, গির্জার প্রাঙ্গণে ক্যামেরা চালিয়ে ছবি তোলার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি পরে ইউটিউবে আপলোড করা ভিডিওতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমি এখানে কেবল ছবি তুলছি, আমি কোনো দলের অংশ নই… আমি একজন সাংবাদিক।” এই ভিডিওটি লেমনকে তার কাজের স্বচ্ছতা প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
ফেডারেল বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা লেমনকে গির্জার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে প্রবেশের অনুমতি না থাকা এবং ধর্মীয় সেবা ব্যাহত করার অভিযোগে দায়ের করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, গির্জার অভ্যন্তরে অননুমোদিত প্রবেশ ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং তাই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর, লেমনকে লস এঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে হাজির হতে হবে। তার আইনজীবী জানান, গ্রেপ্তারির পরবর্তী প্রক্রিয়ায় লেমনকে বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা বিচারিক অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে, ফেডারেল তদন্তের আওতায় লেমনকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার কাজের সীমা কী এবং গির্জার সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা স্পষ্ট করা হবে।
মিনেসোটা ঘটনায় ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা দুইজন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীর মৃত্যু ঘটার পরও, এই গ্রেপ্তারিকে কিছু পর্যবেক্ষক ন্যায়বিচার সংস্থার দৃষ্টিতে রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করেন, সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রথম সংশোধনীকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা জরুরি, অন্যথায় গণমাধ্যমের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ডন লেমনকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া স্বাধীনতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি সংবেদনশীল প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আদালতে তার রায় কী হবে এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের বৈধতা কী হবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে। এই সময়ে, লেমন ও তার আইনজীবী উভয়ই মিডিয়া সংস্থার সমর্থন প্রত্যাশা করছেন, যাতে সাংবাদিকতার মৌলিক অধিকার রক্ষিত থাকে।



