ব্রিটিশ গায়িকা পিঙ্কপ্যানথেরেস এবং ইউকে গ্যারেজের প্রখ্যাত প্রযোজক এম.জে. কোল একসাথে ‘স্টিল সিনসিয়ার’ শিরোনামের নতুন রিমিক্স প্রকাশ করেছেন। এই ট্র্যাকটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে ৮৯২ রেকর্ডিংস/প্লাটুন লেবেল থেকে বাজারে আনা হয়েছে। গানের মূল সুর ও রিদম বজায় রেখে পিঙ্কপ্যানথেরেসের স্বতন্ত্র কণ্ঠ যুক্ত করা হয়েছে, যা মূল সংস্করণের স্যাম্পলড ভোকালকে প্রতিস্থাপন করে।
‘সিনসিয়ার’ প্রথমবার ১৯৯৮ সালে এম.জে. কোলের সিঙ্গেল হিসেবে প্রকাশ পায় এবং যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেল চার্টে ৩৮ নম্বরে প্রবেশ করে। গানের অনন্য গারেজ বেস ও হুক দ্রুত ক্লাবের প্লেলিস্টে স্থান পায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত হয়।
২০০০ সালে একই ট্র্যাকের পুনরায় প্রকাশের ফলে চার্টে তার অবস্থান ১৩ নম্বরে উঠে আসে, যা গানের জনপ্রিয়তা ও প্রভাবকে আরও দৃঢ় করে। এই সাফল্য গারেজ সঙ্গীতের মূলধারায় প্রবেশের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন রিমিক্স ‘স্টিল সিনসিয়ার’ মূল গানের কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখে পিঙ্কপ্যানথেরেসের কণ্ঠকে প্রধান ভোকাল হিসেবে উপস্থাপন করে। পূর্বের স্যাম্পলড এবং কাট করা ভোকালকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে, গানের মেলোডি ও রিদমে আধুনিক পপের ছোঁয়া যুক্ত করা হয়েছে। রিলিজের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ট্র্যাকটি সাড়া পেয়েছে।
পিঙ্কপ্যানথেরেস প্রকাশের পর এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি এম.জে. কোলের সঙ্গে কাজ করে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং গারেজের কিংবদন্তি হিসেবে তার অবদানের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সহযোগিতা তার শৈশবের গারেজ সাউন্ডের প্রতি ভালোবাসাকে নতুন রূপে প্রকাশের সুযোগ দেয়।
ইউকে গ্যারেজ সঙ্গীত ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে লন্ডনের নৈশক্লাব থেকে উত্থিত হয়, যেখানে হাউস, আর অ্যান্ড বি, ডাব ইত্যাদি ধারার উপাদান মিশে একটি স্বতন্ত্র রিদম তৈরি হয়। এই শৈলী দ্রুত তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ক্লাবের মঞ্চে নতুন ধাঁচের নাচের পরিবেশ গড়ে তোলে।
সো সলিড ক্রু, আর্টফুল ডজার, ক্রেগ ডেভিড, মিস-টিক এবং শ্যাঙ্কস অ্যান্ড বিগফুটের মতো শিল্পীরা গারেজের সুরকে মূলধারার চার্টে নিয়ে আসে, যা গানের লিরিক্স ও বিটকে সর্বজনীন করে তুলেছে। তাদের ট্র্যাকগুলো যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেল চার্টে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে উঠে আসে, গারেজকে দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করে।
২০০১ সালে জন্ম নেওয়া পিঙ্কপ্যানথেরেস গারেজের প্রভাবকে তার সঙ্গীতের ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করেন। তিনি ছোটবেলায় লন্ডনের ক্লাবের গারেজ সাউন্ড শুনে বড় হয়েছেন এবং তা তার সৃষ্টিশীলতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০২১ সালে প্রকাশিত ‘পেইন’ গানে তিনি সুইট ফিমেল অ্যাটিটিউডের ‘ফ্লাওয়ার্স’ স্যাম্পল ব্যবহার করে গারেজের ঐতিহ্যকে আধুনিক পপের সঙ্গে মিশ্রিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গারেজের সুর সহজে গ্রহণযোগ্য এবং যে কোনো পরিবেশে বাজানো যায়, ফলে লিরিক্সটি দ্রুতই শোনার মানুষের মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
‘সিনসিয়ার’ গানের সাফল্যের পর এম.জে. কোলের ক্যারিয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে উত্থান পায়; একই নামের ডেবিউ অ্যালবামটি মেরকুরি প্রাইজ ও ব্রিট অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়। এই স্বীকৃতি তাকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এরপর তিনি ডিজজি রাস্কাল, ক্যাটি বি, অ্যামি ওয়াইনহাউস, মারিয়া ক্যারি, ডি লা সোল, অ্যালিসিয়া কি ইত্যাদির জন্য প্রোডাকশন ও রিমিক্স কাজ করেন, যা তার বহুমুখী সঙ্গীত দক্ষতাকে প্রকাশ করে। গারেজের মূল সুরকে আধুনিক পপ ও আর অ্যান্ড বি উপাদানের সঙ্গে মিশ্রিত করার তার ক্ষমতা শিল্প জগতে প্রশংসিত হয়।
‘স্টিল সিনসিয়ার’ রিমিক্স গারেজের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠের সঙ্গে পুনরায় উপস্থাপন করে, যা পুরনো ও নতুন শ্রোতাদের মধ্যে সেতু গড়ে তুলতে সক্ষম। পিঙ্কপ্যানথেরেসের তরুণ স্বর ও এম.জে. কোলের অভিজ্ঞ প্রোডাকশন একত্রে গারেজের ধারাবাহিকতা ও পুনর্জীবনকে সূচিত করে, এবং এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল সংমিশ্রণের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।



