ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষণা করেছে যে, টি২০ বিশ্বকাপের ২০ দলীয় টুর্নামেন্টে দুইজন বাংলাদেশি ইউম্পায়ার অফিসিয়াল প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। টুর্নামেন্টটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে, যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে স্কটল্যান্ডে বদলানো হতে পারে, তবু দেশের ইউম্পায়াররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিত থাকবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে স্কটল্যান্ডে বদলানোর সম্ভাবনা সত্ত্বেও, শারফুদ্দৌলা ইবনে শাহিদ সাইকাত এবং গাজি সোহেলকে ২৪ সদস্যের ইউম্পায়ার প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাইকাত একমাত্র এলিট প্যানেল ইউম্পায়ার হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, আর গাজি সোহেলকে সহ-ইউম্পায়ার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। উভয়ই টুর্নামেন্টের ৫৫টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করবেন।
দুটি ইউম্পায়ার শুক্রবার রাতেই দুবাইয়ের জন্য রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করেছে, এরপর ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ ভেন্যুগুলিতে পৌঁছাবে। আইসিসি কর্তৃক প্রকাশিত প্রেস রিলিজে পুরো ইউম্পায়ার তালিকা ও ম্যাচ রেফারির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম ম্যাচটি ৭ ফেব্রুয়ারি সিংহলেস স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ওই খেলা পরিচালনা করবেন কুমার ধর্মসেনা এবং ওয়েইন নাইটস। উভয়ই অভিজ্ঞ ফিল্ড ইউম্পায়ার, যাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ।
একই দিনে গ্রুপ সি-তে স্কটল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি ম্যাচে নিতিন মেনন এবং স্যাম নোগাজস্কি দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পল রিফেল এবং রড টাকারকে ফিল্ড ইউম্পায়ার হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। এই নিয়োগগুলো টুর্নামেন্টের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
ম্যাচ রেফারির তালিকায় ডিন কোস্কার, ডেভিড গিলবার্ট, রঞ্জন মাদুগাল্লে, অ্যান্ড্রু পাইক্রফ্ট, রিচি রিচার্ডসন এবং জাভাগাল শ্রীনাথ অন্তর্ভুক্ত। তারা টুর্নামেন্টের পুরো সময়কালে ম্যাচের শৃঙ্খলা ও নিয়মাবলী তদারকি করবেন।
ইউম্পায়ার প্যানেলে মোট ২৪ জন নাম রয়েছে। তালিকায় রোল্যান্ড ব্ল্যাক, ক্রিস ব্রাউন, কুমার ধর্মসেনা, ক্রিস গ্যাফানি, এড্রিয়ান হোল্ডস্টক, রিচার্ড ইলিংওর্থ, রিচার্ড কেটলবোরো, ওয়েইন নাইটস, ডোনাভান কোচ, জয়রামন মাদানগোপাল, নিতিন মেনন, স্যাম নোগাজস্কি, কে.এন.এ. পাদমানবন, আল্লাহুদ্দিন পলেকার, আহসান রাজা, লেসলি রেইফার, পল রিফেল, ল্যাংটন রুসেরে, শারফুদ্দৌলা ইবনে শাহিদ, গাজি সোহেল, রডনি টাকার, অ্যালেক্স ওয়ার্ফ, রবেন্দ্র উইমালাসিরি এবং আসিফ ইয়াকুব। এদের প্রত্যেকেরই আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকবেন।
সুপার ইট ও নকআউট পর্যায়ের ইউম্পায়ার নির্বাচন পরবর্তীতে আইসিসি নিশ্চিত করবে। তবে বর্তমানে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, টুর্নামেন্টের পুরো সময়কালে ইউম্পায়ারদের ঘূর্ণায়মান ব্যবস্থা থাকবে, যাতে প্রতিটি ম্যাচে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়।
এই টি২০ বিশ্বকাপের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে হবে এবং মোট এক মাসের বেশি সময় ধরে চলবে। মোট ২০টি দল অংশগ্রহণ করবে, এবং ৫৫টি ম্যাচের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশি ইউম্পায়ারদের এই অংশগ্রহণ দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য একটি গর্বের বিষয়, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বীকৃতি বাড়িয়ে দেবে।
টুর্নামেন্টের সময়সূচি, ম্যাচের ফলাফল এবং অন্যান্য আপডেট আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল স্টেকহোল্ডার একসাথে কাজ করবে।



