বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে এক জনসভা পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের জানিয়ে দেন যে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ব্যক্তিরা দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এই ঝুঁকি আরও বাড়বে।
এই সভায় ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা জামায়াতের আমির এবং নোয়াখালী‑৪ আসনের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার সভার সভাপতিত্ব করেন, আর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মো. আলাউদ্দিন সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতারাও অংশ নেন।
শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দুঃশাসনমুক্ত রাখতে হবে। তিনি অতীতের ১৫ বছর দীর্ঘ দুঃশাসনকে পুনরায় ফিরে আসতে না দেওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুইটি ভোটের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। প্রথম ভোটটি সংস্কারকে সমর্থন করার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট হবে, যেখানে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, আর ‘না’ মানে দাসত্বের স্বীকৃতি।
শফিকুরের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি গত ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলের একাদশ জ্যেষ্ঠ নেতা গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং দলের অফিসগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, দলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা এবং গুজবের ভিত্তিতে তৈরি। হত্যাকাণ্ড, গুম হওয়া এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে দলকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তবে তিনি বলেন, দল কোনো ভুয়া মামলা দায়ের করবে না এবং দেশের কোনো ক্ষতি করবে না।
অধিকন্তু, শফিকুর জানান, সারা বাংলায় এখন ন্যায়বিচারের জন্য একটি প্রবল তরঙ্গ দেখা যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নোয়াখালীই না, পুরো দেশেই মানুষ তাদের কথা শোনার এবং সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে।
মহিলা শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মায়েরা ও বোনেরা এখন বুঝতে পেরেছেন, তাদের জীবন‑ইজ্জত কার হাতে নিরাপদ। এই উপলব্ধি তাদেরকে ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি ভোটের মাধ্যমে সরকারে আসার সুযোগ পান, তবে দেশের মায়েরা ঘরে এবং কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা পাবেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা হলে, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা করা হবে।
সভায় মাওলানা মো. আলাউদ্দিন এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যদের বক্তব্যও শোনা যায়। তারা সকলেই একমত যে, একটি স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক এবং দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা জরুরি।
বিপক্ষের কিছু নেতা শফিকুরের এই বক্তব্যকে নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, দুইটি ভোটের পরিকল্পনা এবং ‘হ্যাঁ‑না’ ভোটের রূপক ব্যবহার রাজনৈতিক বিভাজনকে তীব্র করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, ১২ তারিখের দ্বি‑ভোট প্রক্রিয়া আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা অনুমান করেন, এই কৌশলটি জোটের গঠন ও ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সভা শেষের দিকে সকল অংশগ্রহণকারী একত্রে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সমাপনী করেন।



