অ্যাপল এখনও কোনো ফোল্ডেবল আইফোনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষের দিকে প্রথম ফোল্ডেবল মডেল বাজারে আসতে পারে। এটি উচ্চমানের ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে অবস্থান করবে, কোনো সীমিত পরীক্ষামূলক পণ্য নয়। এই পরিকল্পনা অ্যাপলের ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গুজবের শিকড় ২০১৭ সাল পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সময়সীমা শীত ২০২৬, সম্ভবত আইফোন ১৮ সিরিজের সঙ্গে একসাথে প্রকাশের কথা বলা হচ্ছে। পূর্বে কিছু বিশ্লেষক প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে লঞ্চের সম্ভাবনা উল্লেখ করলেও, বর্তমান তথ্য শেষের দিকে বেশি সম্ভাব্য বলে নির্দেশ করে। ফলে ২০২৭ সালে বিক্রয় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষক এবং লিক তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের জন্য বই-ধাঁচের নকশা বেছে নিয়েছে, যা স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সিরিজের মতো। ক্ল্যামশেল ফ্লিপ স্টাইলের পরিবর্তে এই পদ্ধতি স্ক্রিনের বড় আয়তন এবং ব্যবহারিকতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ডিভাইসটি খুলে রাখলে ট্যাবলেটের মত কাজ করবে।
খোলার পর স্ক্রিনের আকার প্রায় ৮.৩ ইঞ্চি, যা আইপ্যাড মিনি’র সমান বা সামান্য ছোট হতে পারে। এই মাত্রা ব্যবহারকারীকে মিডিয়া ভিউয়িং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ে সুবিধা দেবে। স্ক্রিনটি নমনীয় OLED প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা উঁচু রেজোলিউশন এবং উচ্চ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করবে।
ক্যামেরা সিস্টেমের ক্ষেত্রে, অ্যাপল সম্ভবত আইফোন ১৮ সিরিজের মতোই একাধিক লেন্স যুক্ত করবে, তবে ফোল্ডেবল ফর্ম ফ্যাক্টরের জন্য বিশেষ কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। সেন্সর এবং লেন্সের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হিঞ্জের নকশা এবং স্ক্রিনের ভাঁজের স্থায়িত্বে অতিরিক্ত গবেষণা চালানো হচ্ছে। এই বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত পণ্যটির চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মূল্য নির্ধারণে অ্যাপল প্রিমিয়াম সেগমেন্টকে লক্ষ্য করবে, ফলে ফোল্ডেবল মডেলটি উচ্চ মূল্যের সীমার মধ্যে থাকবে। এটি স্যামসাং ও গুগল (Alphabet) এর ফোল্ডেবল পণ্যের তুলনায় সমান বা সামান্য বেশি হতে পারে। তবে অ্যাপলের ব্র্যান্ডের শক্তি এবং ইকোসিস্টেমের সুবিধা গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত করতে পারে।
বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনকে আলাদা করে তুলতে সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন এবং ইকোসিস্টেম ইন্টিগ্রেশনকে গুরুত্ব দেবে। iOS-এ মাল্টি-টাস্কিং, অ্যাপ রেজুমে এবং হ্যান্ডস-ফ্রি মোডের উন্নত সংস্করণ যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এই ধরনের বৈশিষ্ট্য ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
উৎপাদন প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জের মধ্যে হিঞ্জের টেকসইতা এবং স্ক্রিনের দীর্ঘস্থায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত, যা ২০২৭ পর্যন্ত লঞ্চ দেরি করার সম্ভাবনা তৈরি করে। অ্যাপল পূর্বে প্রস্তুত না হওয়া পণ্যকে বিলম্বিত করার ইতিহাস রয়েছে, তাই এই বিষয়গুলো সমাধান না হলে সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষের দিকে লঞ্চের পরিকল্পনা সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে ধরা হচ্ছে।
ফোল্ডেবল ফোনের প্রকাশ অ্যাপলের পোর্টফোলিওতে নতুন দিক যোগ করবে এবং স্মার্টফোনের ব্যবহারিকতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবহারকারী বড় স্ক্রিনে ভিডিও দেখার, ডকুমেন্ট এডিট করার এবং গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারবেন। একই সঙ্গে, এই পণ্যটি অ্যাপলের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
প্রযুক্তি জগতে এই অগ্রগতি নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে আপডেট প্রদান করা হবে। অ্যাপল কীভাবে ফোল্ডেবল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার নিজস্ব ইকোসিস্টেমে সংহত করবে, তা ভবিষ্যতে নজরে থাকবে।



