21 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডা. শফিকুর রহমানের নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন প্রতিশ্রুতি

ডা. শফিকুর রহমানের নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন প্রতিশ্রুতি

নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হলে নোয়াখালীকে বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। একই দিনে সকাল ৯টায় জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী‑৪ আসনের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে আরেকটি জনসভা শুরু হয়, যেখানে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয় প্রকাশিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নোয়াখালীর দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন গঠন ছাড়াও হাতিয়া‑কোম্পানীগঞ্জ‑সুবর্ণচর নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, কোম্পানীগঞ্জ‑ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সুবর্ণচরের এক দুঃখিত মায়ের স্মরণে তিনি বিশেষ উল্লেখ করেন যে, ভোট দেওয়ার জন্য ধানের শীষে হায়েনারা কষ্ট দিয়েছিল, তাই নির্বাচিত হলে ঐ এলাকায় পৌরসভা গঠন করা হবে। এই প্রতিশ্রুতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।

যুব সমাজ ও বেকারত্বের প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন, তারা যুবকদের জন্য বেকার ভাতা নয়, বরং দেশ গড়ার জন্য দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, ১১ দলের অধিকাংশ প্রার্থীর বয়স ৪৫ বছরের নিচে, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে যুব সমাজের হাতে দিতে চাওয়ার সংকেত।

জনসভায় তিনি নোয়াখালীর ছয়টি আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি ও জোটের প্রার্থীদের ভোট দিতে আহ্বান জানান এবং জয়লাভের পর দ্রুত ঘরে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি চারজন জামায়াত প্রার্থী ও দুইজন জোটের প্রার্থীর হাতে শাপলা কলি তুলে দেন, যা ভোটারদের সমর্থনকে চিহ্নিত করে।

এই অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, এবং ডাকসুরের সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি জোটের ঐক্য ও সংগঠনের দৃঢ়তা প্রকাশ করে।

প্রতিবাদী দলগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন গঠনের পরিকল্পনা কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তারা দাবি করে যে, নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের গঠন আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তবে ডা. শফিকুর রহমানের দল এই উদ্বেগকে প্রত্যাখ্যান করে, বলেন যে বিভাগ গঠন নোয়াখালীর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। তারা জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

জনসভায় উপস্থিত সাধারণ নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র ছিল; কিছুজন নতুন বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনকে উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কিছুজন অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন।

এই র্যালি নোয়াখালীর রাজনৈতিক পরিবেশকে তীব্র করেছে, কারণ অন্যান্য দলও একই সময়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সকাল সেশনে জোটের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়, যা ভোটারদের মধ্যে জোটের সমর্থন বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।

নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে নোয়াখালীর প্রশাসনিক কাঠামো ও স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

অবশেষে, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য ও জোটের সমন্বিত প্রচারণা নোয়াখালীর ভোটারদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গঠন হবে, তা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments