ঢাকার একটি হোটেলে শুক্রবার বাংলাদেশ মনিটর ও গ্যালাক্সি গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ট্রাভেল, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তার বক্তব্যে পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
রিজওয়ানা উল্লেখ করেন, সেন্টমার্টিন নিয়ে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার যদি পর্যটন উদ্যোক্তারা সরাসরি মোকাবিলা করতেন, তবে বিষয়টি এত বিশাল বিতর্কে রূপ নিত না। তিনি “সোনার ডিম পাড়া হাঁস থেকে একবারে সব ডিম পাওয়ার” ইচ্ছাকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা হিসেবে উল্লেখ করে, বাস্তবিক দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এছাড়াও তিনি একই রকম সমস্যার উদাহরণ হিসেবে সিলেটের সাদা পাথর ও হাওরকে উল্লেখ করেন, যেখানে অতিরিক্ত আশাবাদী পরিকল্পনা ও অপর্যাপ্ত দায়িত্ববোধের ফলে পর্যটন সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়নি। এই উদাহরণগুলো থেকে তিনি দেখাতে চান যে, একক উদ্যোগে সব সুবিধা একসাথে পাওয়ার ধারণা বাস্তবিকভাবে টেকসই নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে রিজওয়ানা বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পে বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল আচরণের অভাব লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পর্যটক এবং পর্যটন সেবা প্রদানকারী উভয়েরই নৈতিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব পালন করা অপরিহার্য। এই দায়িত্বশীলতা না থাকলে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকরা অন্য গন্তব্যে ঝুঁকবে।
অতএব, তিনি আহ্বান জানান, পর্যটন সংস্থা, হোটেল ও গাইডসহ সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে স্বচ্ছতা, সেবা মান এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপ নিতে হবে। এই দিকগুলোকে শক্তিশালী করলে বাজারের চাহিদা ও আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
পুরস্কার অনুষ্ঠানে মোট ২৯টি ক্যাটাগরিতে ২৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৮জন ব্যক্তিকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। আয়োজকরা উল্লেখ করেন, এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য হল সেবা মানের উন্নতি ও পেশাদারিত্বের বিকাশে শিল্পের অংশীদারদের উৎসাহিত করা। স্বীকৃতিগুলোকে শিল্পের সেরা চর্চা হিসেবে তুলে ধরা হবে, যা ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মশক্তি আকর্ষণে সহায়ক হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দায়িত্বশীল পর্যটন নীতি গ্রহণ করলে বিদেশি পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে, হোটেল ও রিসোর্টের দখল হার উন্নত হবে এবং স্থানীয় শিল্পকর্ম, হস্তশিল্প ও খাবার শিল্পে সরাসরি আয় বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে, দায়িত্ববোধের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে সুনাম ক্ষতি, পুনরাবৃত্তি ভ্রমণ হ্রাস এবং আয় হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মাবলী কঠোর করা, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা এবং মানদণ্ড নির্ধারণে সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন। পাবলিক‑প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং পর্যটন পণ্যকে বৈচিত্র্যময় করা হলে বাজারের প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং টেকসই বৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে উঠবে।
সংক্ষেপে, রিজওয়ানার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, পর্যটন শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ভর করে দায়িত্বশীল আচরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পেশাদারিত্বের উপর। এই নীতিগুলো মেনে চললে বাংলাদেশ তার প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারবে।



