শফিকুর রহমান, জামাতের উচ্চপদস্থ নেতা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, জামাতের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদ, অর্থাৎ আমির, নারী হতে পারে না। তিনি এই বক্তব্যের পেছনে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত কারণ উল্লেখ করে বলেন, পার্টির সংবিধানিক নীতিমালা অনুযায়ী এই পদটি পুরুষ সদস্যের জন্য সংরক্ষিত।
বক্তব্যের সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামাতের আদর্শ ও সংগঠনের কাঠামোতে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব পুরুষদেরই পালন করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি পার্টির ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শফিকুরের এই মন্তব্যটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ জামাত বর্তমানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পার্টির নেতৃত্বের পরিবর্তন ও নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিমধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। শফিকুরের বক্তব্যের পর কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই রকম অবস্থান পার্টির আধুনিকায়ন ও তরুণ ভোটারদের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে বাধা হতে পারে।
বিপরীত দিক থেকে, নারী অধিকার সংস্থা ও কিছু রাজনৈতিক দল এই মন্তব্যকে সমালোচনা করেছে। তারা দাবি করে, সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ পদে নারীর অযোগ্যতা ঘোষণা করা বৈষম্যমূলক। তবে শফিকুরের দল এই সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে, পার্টির অভ্যন্তরীণ নীতি ও ধর্মীয় নীতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।
এই বিবৃতি দেশের মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়ায় বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে; কিছু ব্যবহারকারী শফিকুরের অবস্থানকে ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনের অংশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অন্যরা তা পুরনো এবং অগ্রগামী না হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শফিকুরের মন্তব্যের ফলে জামাতের নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। যদি পার্টি নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চায়, তবে তাকে নেতৃত্বের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে, যা বর্তমান অবস্থার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। অন্যদিকে, শফিকুরের মতামত পার্টির মূল সমর্থকদের মধ্যে স্বীকৃতি পেতে পারে, যা ভোটার ভিত্তি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে জামাতের কেন্দ্রীয় কমিটি এই বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনার সূচনা করতে পারে। যদি কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তবে তা পার্টির সংবিধানে সংশোধন আনা বা নতুন নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শফিকুরের বক্তব্য জামাতের নেতৃত্বের কাঠামো ও লিঙ্গ নীতির উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



