ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ – দেশের পাঁচটি প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক আজ তাদের আমানত মুনাফা ৯.৫ শতাংশে নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে। এই হারটি পূর্বের গড়ের তুলনায় প্রায় এক শতাংশ বেশি এবং সঞ্চয়কারীদের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের রিটার্ন প্রদান করে। ব্যাংকগুলো এই সিদ্ধান্তের কার্যকরী তারিখ ও নির্দিষ্ট পণ্যসমূহের শর্তাদি প্রকাশ না করলেও, বাজারে ইতিমধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে, উচ্চতর মুনাফা হার সঞ্চয়কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী ফিক্সড ডিপোজিট ও সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে নতুন জমা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের খরচ কমে যাবে, যা ঋণ প্রদানের সক্ষমতাকে সমর্থন করবে। তবে একই সঙ্গে, মুনাফা বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলোর নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন (NIM) সংকুচিত হতে পারে, কারণ উচ্চ সুদের হার ঋণগ্রহীতাদের জন্যও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই পদক্ষেপটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর ধারাবাহিকতা সঞ্চয়কে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই মুনাফা বৃদ্ধিকে সমর্থন করে। ফলে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে ভোক্তা ব্যয় হ্রাস পেতে পারে, তবে একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্য ক্রেডিটের খরচ বাড়বে।
ব্যাংকিং খাতের জন্য এই পরিবর্তনটি তহবিলের গঠনকে পুনর্গঠন করার সুযোগ দেয়। উচ্চ মুনাফা হার সঞ্চয়কারীদের দীর্ঘমেয়াদী আমানত রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে, যা ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি পজিশনকে শক্তিশালী করবে। তবে, যদি ঋণগ্রহীতাদের চাহিদা হ্রাস পায়, তবে ঋণ পোর্টফোলিওতে বৃদ্ধি সীমিত হতে পারে, যা ব্যাংকের আয় বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, উচ্চ মুনাফা হার সঞ্চয়কে উৎসাহিত করে দেশীয় বিনিয়োগের ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। সঞ্চয় বাড়লে ব্যাংকগুলোকে বেশি মূলধন সরবরাহ হবে, যা অবকাঠামো প্রকল্প ও উৎপাদন খাতে ঋণ প্রদানে সহায়তা করবে। তবে, ঋণদানের হার বাড়লে ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে উৎপাদন খাতে মন্দার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন। যদি মুনাফা হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তবে ব্যাংকগুলোকে উচ্চতর তহবিলের খরচ সামলাতে হবে, যা তাদের লাভজনকতা হ্রাস করতে পারে। অন্যদিকে, সঞ্চয় বাড়লে আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং মুদ্রা বাজারে রূপান্তরিত হবে। তাই, ব্যাংকগুলোকে মুনাফা হার এবং ঋণদানের শর্তের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
সংক্ষেপে, পাঁচটি ব্যাংকের ৯.৫ শতাংশ মুনাফা হার সঞ্চয়কারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে, তবে একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যয়বহুল শর্তের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই দ্বিমুখী প্রভাব ব্যাংকিং খাতের তহবিল গঠন, ঋণদান নীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবাহে প্রভাব ফেলবে। ব্যাংকগুলোকে মুনাফা হার ও ঋণদানের নীতি সমন্বয় করে স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে অগ্রসর হতে হবে।



