আইসিসি শুক্রবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রেফারি ও আম্পায়ার তালিকা প্রকাশ করেছে। যদিও বাংলাদেশ দল নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে না গিয়ে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে না, তবুও দেশের দুজন অভিজ্ঞ আম্পায়ার এই ইভেন্টে উপস্থিত থাকবে। তালিকায় নামভুক্ত হলেন শীর্ষ প্যানেলের একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধি শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত এবং নতুন মুখ গাজী সোহেল।
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত আইসিসি এলিট প্যানেলের একমাত্র বাংলাদেশি সদস্য হিসেবে এই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। তিনি পূর্বে বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার নাম সুপরিচিত। এই টুর্নামেন্টে তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
শরফুদ্দৌলা পূর্বে মোট ৭৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অন‑ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি ৫৪টি ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ার (অন‑ফিল্ড) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার বিশাল অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে। তার ক্যারিয়ারকে সমর্থন করে এমন পরিসংখ্যান তাকে টুর্নামেন্টের উচ্চ দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।
গাজী সোহেল এইবার প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করবেন। যদিও তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন, তবু তার পূর্বের রেকর্ড তাকে এই দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করেছে। গাজী সোহেল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অন‑ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে ৪০টি ম্যাচ এবং টিভি আম্পায়ার হিসেবে ১৯টি ম্যাচে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
আইসিসি তালিকায় মোট ২৪জন আম্পায়ার এবং ৬জন ম্যাচ রেফারি চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়ের সব ম্যাচের জন্য যথেষ্ট, যাতে প্রতিটি গেমে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। তালিকায় নামভুক্ত সকল রেফারি ও আম্পায়ার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষিত এবং আইসিসি কর্তৃক অনুমোদিত।
বাংলাদেশ দল নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে না গিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও, শরফুদ্দৌলা ও গাজী সোহেলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আইসিসি কর্তৃক নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি উভয় দেশের ক্রীড়া সংস্থার সমর্থন পেয়েছে এবং উভয় আম্পায়ারের পেশাগত গৌরবকে তুলে ধরে।
শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের দল মুখোমুখি হবে এবং দুইজন অভিজ্ঞ রেফারির তত্ত্বাবধানে থাকবে। কুমার ধার্মাসেনা এবং ওয়েইন নাইটসকে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের রেফারি হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে।
ধার্মাসেনা, যিনি ১৯৯৬ বিশ্বকাপের বিজয়ী দলের সদস্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৩৭টি ম্যাচে রেফারি হিসেবে কাজ করেছেন। তার ক্যারিয়ারে ২০১৬ ও ২০২২ আসরের ফাইনাল ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে আন্তর্জাতিক রেফারিংয়ের শীর্ষে রাখে। তার অভিজ্ঞতা উদ্বোধনী ম্যাচের গুণগত মান নিশ্চিত করবে।
ওয়েইন নাইটসের জন্য এই টুর্নামেন্টই প্রথম বিশ্বকাপের দায়িত্ব। তিনি ইতিমধ্যে ৫০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণের মাইলফলক অর্জন করেছেন, যার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচটি তার ৫০তম টি-টোয়েন্টি হিসেবে চিহ্নিত হবে। তার উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের রেফারিদের জন্য উদাহরণস্বরূপ।
সুপার ইট এবং নকআউট পর্যায়ের রেফারি ও আম্পায়ার তালিকা আইসিসি পরে প্রকাশ করবে। এই তালিকায় আরও কিছু অভিজ্ঞ রেফারির নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে ন্যায্যতা বজায় থাকে। সংশ্লিষ্ট তথ্য শীঘ্রই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ দল না গেলেও দেশের দুজন শীর্ষ আম্পায়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে। শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত তার অভিজ্ঞতা ও এলিট প্যানেল সদস্যতার মাধ্যমে টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, আর গাজী সোহেল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার দক্ষতা প্রদর্শন করবেন। উভয়ই দেশের ক্রীড়া গর্বকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরবে।



