মার্কিন নৌবাহিনীর USS Abraham Lincoln ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বের অঞ্চলে, ইরানীয় জলের নিকটে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপটি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আক্রমণের পূর্বাভাসের সঙ্গে যুক্ত, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনা উভয়কে প্রভাবিত করছে।
ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ মাত্রার এবং সহিংস প্রতিবাদ দমন দেখা গেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে বহু মানুষ নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি ইরান সরকারের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, কারণ প্রতিবাদকারীরা সরকারী কাঠামোকে উচ্ছেদ করার দাবি তুলছে। একই সময়ে মার্কিন সরকারের প্রধানের উদ্দেশ্য স্পষ্ট না থাকায় ইরান এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর এই উপস্থিতি ইরানীয় সীমানার নিকটে হওয়ায় উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই সময়ে মার্কিন সরকারের কোনো আক্রমণ পরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও, ক্যারিয়ার গ্রুপের উপস্থিতি কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইরানীয় নেতারা এখন দু’টি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: একদিকে প্রতিবাদকারীদের তীব্র দাবি, অন্যদিকে মার্কিন সরকারের অনির্দিষ্ট নীতি। এই দ্বৈত চাপ ইরান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা যোগ করেছে এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ দমনকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে, ইরানের জন্য একটি নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদি মার্কিন সরকার কোনো সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে তা দ্রুত আঞ্চলিক এবং দেশীয় উভয় স্তরে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। পূর্বের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, ইরান সাধারণত সীমিত এবং দেরি করে প্রতিক্রিয়া জানায়।
উদাহরণস্বরূপ, ২১-২২ জুন ২০২৫-এ মার্কিন সরকার ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় আক্রমণ চালানোর পর, ইরান পরের দিন কাতারের আল উদেইদ বিমানবেসে ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, ইরান আগাম সতর্কতা দিয়ে তাদের রকেটগুলোকে অধিকাংশই ধ্বংস করে ফেলেছে, ফলে কোনো প্রাণহানি হয়নি। এই ঘটনাকে ইরান সরকার বৃহত্তর যুদ্ধে না জড়িয়ে সংকল্প প্রকাশের প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
একই ধরনের প্যাটার্ন জানুয়ারি ২০২০-এও দেখা গিয়েছিল। মার্কিন সরকার বাগদাদ বিমানবন্দরের নিকটে কুয়াস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর, ইরান পাঁচ দিন পর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন আয়ন আল-আসাদ বিমানবেসে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে প্রতিক্রিয়া জানায়। আবারও ইরান আগাম সতর্কতা দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে অধিকাংশ রকেট ধ্বংস করে।
এই দুইটি উদাহরণ ইরানের কৌশলগত পদ্ধতিকে প্রকাশ করে: আক্রমণের পূর্বে সতর্কতা প্রদান, সীমিত ক্ষতি নিশ্চিত করা এবং বৃহত্তর যুদ্ধে না জড়িয়ে সংকেত পাঠানো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপের সমন্বয় পূর্বের পদ্ধতিকে পরিবর্তন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, যদি মার্কিন সরকার আবার কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরান দ্রুত এবং বৃহত্তর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এই সম্ভাবনা ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত, যা দেশের সামরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, USS Abraham Lincoln ক্যারিয়ার গ্রুপের উপস্থিতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকি ইরানীয় সরকারকে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অতীতের সীমিত প্রতিক্রিয়া প্যাটার্নের পরিবর্তে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং বিস্তৃত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলবে। অঞ্চলীয় দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এই বিকাশের দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে নজর রাখতে হবে, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় সংঘাতের ঝুঁকি কমানো যায়।



