26 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ সরকার সউদি আরব কর্মীদের জন্য একমুখী ভাড়া ২০,০০০ টাকা নির্ধারণ

বাংলাদেশ সরকার সউদি আরব কর্মীদের জন্য একমুখী ভাড়া ২০,০০০ টাকা নির্ধারণ

বাংলাদেশ সরকার সউদি আরবের বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একমুখী ভাড়া ২০,০০০ টাকায় নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি সরকারী প্রেস উইং আজ সকালে জানিয়েছে। লক্ষ্য হল শ্রমিকদের পরিবারে ফিরে যাওয়া সহজ ও সাশ্রয়ী করা। ভ্রমণ খরচ কমে গৃহস্থালির আর্থিক চাপ হ্রাসের আশা করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিভিল এভিয়েশন ও ট্যুরিজম উপদেষ্টা স্ক বশির উদ্দিনের মতে, এই বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে সউদি আরব-বাংলাদেশ রুটে ৮০,০০০ টিকিট বিক্রি করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক এই সুযোগ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রয় লক্ষ্য পূরণে বিমান সংস্থার বিক্রয় ও সেবা নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা হবে।

উদ্দিন উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের সরাসরি উপকার হবে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য, একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আর্থিক অবস্থায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। কম ভাড়া দিয়ে অধিক যাত্রী আনা সম্ভব হবে, ফলে আয় বৃদ্ধি পাবে। সরকারী সহায়তা এবং বাজারের চাহিদা মিলিয়ে এই ব্যবস্থা টেকসই মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ করে হজ ভ্রমণের সময় দীর্ঘদিন ধরে খালি একমুখী ফ্লাইট চালানোর প্রথা এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবহার করা হবে। বশিরের মতে, হজ সিজনে ফাঁকা ফ্লাইটগুলোকে পূর্ণ করে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

মদিনা-ঢাকা এবং জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী ন্যূনতম ভাড়া ২০,৫০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। একই রুটে রিটার্ন টিকিটের ন্যূনতম মূল্য ৪২,০০০ টাকা রাখা হয়েছে। এই মূল্য কাঠামোটি কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প প্রদান করার পাশাপাশি বিমান সংস্থার খরচ কাভারেজ নিশ্চিত করে।

নির্ধারিত বিশেষ ভাড়া ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে আগমনের জন্য কার্যকর হবে। দেশের বাইরে যাত্রার জন্য ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই মূল্য প্রযোজ্য হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এই উদ্যোগকে প্রবাসী নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি উপদেষ্টা বশিরকে এই পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নত করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সস্তা ভাড়া শ্রমিকদের ভ্রমণ চাহিদা বাড়িয়ে বিমান সেবার মোট আয় বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে, হজ ফ্লাইটের ব্যবহারিকতা বাড়লে বিমান সংস্থার ফ্লিট ব্যবহার দক্ষতা উন্নত হবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে টিকিটের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করতে হবে। এই ধরনের নীতি প্রয়োগে আর্থিক ঝুঁকি ও বাজারের প্রতিক্রিয়া সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, একমুখী ভাড়া ২০,০০০ টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ভ্রমণ ব্যয় কমাতে এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চাচ্ছে। পরিকল্পিত সময়সীমা ও টিকিট লক্ষ্য পূরণ হলে এই মডেল অন্যান্য রুটে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments