ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল শাহীবাগে নির্বাচনী সফরের সময় একটি বক্তৃতা দেন। তিনি নির্বাচনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নীতি ও বিরোধী পার্টির কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন।
বক্তৃতায় পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যদিও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেন, তবে তাকে ব্যবহার করে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করছেন। তিনি এই মন্তব্যকে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।
পাটওয়ারী আরও বলেন, বিএনপি যে পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে ভোটারকে বিভ্রান্ত করার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রতি তার মন্তব্য তীব্র হয়; তিনি তাকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেন এবং কোনো ধরনের অবিচার ও দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করা হবে না বলে জোর দেন।
জাতীয় নাগরিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে পাটওয়ারী জনকল্যাণের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বিশেষ প্রকল্পের পরিকল্পনা উল্লেখ করেন।
বিএনপি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে পার্টির মুখপাত্র পূর্বে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্টি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করছে বলে উল্লেখ করেছেন। এই পারস্পরিক অভিযোগগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-৮ আসনের ভোটাররা বিভিন্ন দলীয় প্রতিশ্রুতি ও নেতাদের মন্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই প্রকাশনা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে এবং ভোটারদের মধ্যে আলোচনা বাড়াতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দল ১১ দলীয় জোটের অংশ, যা সরকার বিরোধী শক্তি হিসেবে একত্রিত হয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য হল একক ভোটে একাধিক বিরোধী পার্টির সমন্বয় ঘটিয়ে ভোটের ভাগ বাড়ানো। পাটওয়ারীর মন্তব্য জোটের সমন্বয়ক হিসেবে তার কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরে।
শাহীবাগ, যা রাজধানীর রাজনৈতিক মঞ্চের অন্যতম কেন্দ্র, নির্বাচনী র্যালি ও সমাবেশের জন্য প্রায়ই ব্যবহার হয়। পাটওয়ারীর এই বক্তব্য শাহীবাগের ভিড়ের সামনে দেওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত ভক্ত ও সাধারণ নাগরিকরা তার বক্তব্যে সাড়া দেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে পার্টি সম্প্রতি বিভিন্ন নীতি পরিবর্তন ও নির্বাচনী কৌশল গ্রহণ করেছে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুবার নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তিনি পার্টির মূল মুখ হিসেবে রয়ে গেছেন। পাটওয়ারীর মন্তব্য তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করে।
জাতীয় নাগরিক দলের প্রার্থী হিসেবে পাটওয়ারী পূর্বে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। তিনি তার কর্মজীবনের সময় গ্রাম উন্নয়ন, শিক্ষার প্রবেশাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। এই পটভূমি তাকে ভোটারদের কাছে উন্নয়নমুখী প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করে।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এ ধরনের তীব্র মন্তব্য ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি পাটওয়ারীর অভিযোগগুলো ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে তা বিএনপি ও তার সমর্থকদের মধ্যে সমালোচনা বাড়াতে পারে, যা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই মন্তব্যগুলোকে রাজনৈতিক হিংসা হিসেবে দেখা হয়, তবে তা বিরোধী পার্টিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।



