26 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকনাইজারে দিওরি হামানি বিমানবন্দরের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, ২০ আক্রমণকারী নিহত, ১১ গ্রেপ্তার

নাইজারে দিওরি হামানি বিমানবন্দরের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, ২০ আক্রমণকারী নিহত, ১১ গ্রেপ্তার

নাইজারের রাজধানী নিয়ামের কাছাকাছি দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক ঘাঁটিতে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) একটি সশস্ত্র হামলা ঘটেছে। সরকার জানায়, আক্রমণকারীদের মধ্যে ২০ জন নিহত এবং ১১ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে তীব্রতর করে তুলেছে।

ঘাঁটি বিমানবন্দরের প্রায় দশ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এবং রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ শুরু হয়। আক্রমণ প্রায় ত্রিশ মিনিট স্থায়ী হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর আকাশ ও স্থল অভিযান চালু হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সালিফু মোডি জানিয়েছেন, হামলায় চারজন সামরিক কর্মী আহত হয়েছে এবং ২০ জন আক্রমণকারী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ফরাসি নাগরিকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক ঘাঁটির প্রধান কমান্ডার জেনারেল আবদুরাহমান তিয়ানি টেলিভিশনে বলেন, “আমরা তাদের গর্জন শোনেছি, এখন তারা আমাদের প্রতিক্রিয়া শুনবে” এবং রাশিয়ান সৈন্যদের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাশিয়া ইতিমধ্যে নাইজারে সামরিক সহায়তা প্রদান করছে, বিশেষ করে আল-কায়েদা ও আইএসআইএস-সংক্রান্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। রাশিয়ান প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।

হামলার জন্য ফ্রান্স, বেনিন এবং আইভরি কোস্টকে দায়ী করা হয়েছে। তবে এই তিন দেশ এখনও ঘটনাটির বিষয়ে কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেনি।

আক্রমণের পেছনে কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি, ফলে তদন্তের দায়িত্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর রয়ে গেছে।

জুলাই ২০২৩-এ প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাযুমকে উৎখাত করার পর থেকে জেনারেল তিয়ানি দেশের শীর্ষে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে ‘আলায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ গঠন করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চায়।

এই জোটের লক্ষ্য হল সীমান্ত পারাপার সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন এবং অস্থিতিশীলতা কমিয়ে আনা। তিয়ানির সরকার দাবি করে, জোটের মাধ্যমে তিনটি দেশ একত্রে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারবে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি এবং সাহেল জোটের গঠন নাইজারের নিরাপত্তা নীতি পুনর্গঠনের সংকেত দেয়। তারা যোগ করেন, “রাশিয়ার সহায়তা এবং জোটের সমন্বয় দেশকে পশ্চিমা চাপ থেকে স্বতন্ত্র নীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে”।

ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের সাথে সম্পর্কের অবনতি নাইজারের কূটনৈতিক পরিসরে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা সহায়তা ও মানবিক সাহায্য এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ঘটনাটির পরবর্তী সপ্তাহে নাইজারকে ভিজিটের পরিকল্পনা করছেন, যাতে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও মানবিক সহায়তার বিষয়গুলো আলোচনা করা যায়।

দূরদর্শী মন্তব্যে বলা হয়, “এই ধরনের আক্রমণ আফ্রিকান মহাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা উন্মোচিত করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করে”।

পরবর্তী সময়ে নাইজার সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি বাড়াতে এবং রাশিয়ান প্রশিক্ষণকে সম্প্রসারিত করতে পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে, ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments