পানামার সুপ্রিম কোর্ট গত বৃহস্পতিবার হংকং-ভিত্তিক একটি কোম্পানির প্যানামা ক্যানালের কন্টেইনার পোর্ট পরিচালনার চুক্তি বাতিলের রায় দেয়। রায়টি কংগ্রেসের এক বছরের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যানাল চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করার পর আসে।
CK Hutchison Holding এর সাবসিডিয়ারি Panama Ports Company (PPC) ১৯৯০-এর দশক থেকে প্যানামা ক্যানালের পাঁচটি পোর্টের মধ্যে দুইটি পরিচালনা করে আসছে। কোম্পানিটি পূর্বে একটি বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে পোর্টগুলোকে মার্কিন বিনিয়োগ ফার্মের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল।
বাতিলকৃত চুক্তিগুলোকে সমর্থনকারী আইনগুলোকে অসংবিধানিক বলে আদালত ঘোষণা করে, যদিও PPC রায়কে “আইনি ভিত্তি নেই” বলে খণ্ডন করেছে। আদালত উল্লেখ করে যে, রাষ্ট্র ও PPC এর মধ্যে কনসেশন চুক্তি ভিত্তিক আইনগুলোতে সাংবিধানিক ত্রুটি রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শপথগ্রহণের ভাষণে প্যানামা ক্যানালকে চীনের হাতে পড়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন এবং “আমরা এটি চীনের কাছে দিইনি, পানামাকে দিয়েছি এবং এখন আবার ফিরে নিচ্ছি” বলে দাবি করেন। এই বক্তব্যের এক মাস পর মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মারকো রুবিও চীনের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের ওপর “তাৎক্ষণিক পরিবর্তন” দাবি করেন।
পানামা সরকার এই ধরনের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রেসিডেন্ট জোসে রাউল মুলিনো ক্যানাল “দেশের হাতে থাকবে এবং থাকবে” বলে জোর দেন। বর্তমানে চীনের কোনো সরকারি সংস্থা সরাসরি ক্যানাল নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ নেই, যদিও চীনা কোম্পানিগুলো এখানে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
CK Hutchison, হংকংয়ের ধনী ব্যবসায়ী লি কা-শিং প্রতিষ্ঠিত, চীনা সরকারী মালিকানাধীন নয়। তবে হংকংয়ের আর্থিক আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় এটি চীনা আর্থিক নিয়মের আওতায় পড়ে। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য রুটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আদালতের রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি চীনের সম্ভাব্য প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করার একটি আইনি ভিত্তি সরবরাহ করে। তবে পোর্ট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে এবং ভবিষ্যৎ চুক্তিগুলোর পুনঃনির্ধারণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, প্যানামা ক্যানালের পোর্টগুলোতে পরিচালনাকারী কোম্পানির পরিবর্তন লজিস্টিক্স খরচ এবং শিপিং রুটের সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি নতুন কনসেশন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, তবে গ্লোবাল কন্টেইনার প্রবাহে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, পানামা সরকার যদি পোর্টগুলোকে পুনরায় টেন্ডার করে, তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে চীনের আর্থিক সংযোগ বজায় থাকলে, ভবিষ্যতে পুনরায় চীনা স্বার্থের প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।
এই রায়ের ফলে পানামা ক্যানালের মালিকানা ও পরিচালনা সংক্রান্ত আইনি কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের বাণিজ্যিক পরিবেশকে পুনর্গঠন করতে পারে। উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ এবং চীনের বাণিজ্যিক উপস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
সংক্ষেপে, পানামা সুপ্রিম কোর্টের রায় হংকং-ভিত্তিক ফার্মের পোর্ট চুক্তি বাতিল করে, যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে একটি আইনি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পোর্ট পরিচালনার অনিশ্চয়তা এবং পুনঃটেন্ডার প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি এবং সুযোগ উভয়ই তৈরি করবে।



