শুক্রবার দুপুর ১২টায় বগুড়ার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের জন্য একটি উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান উপস্থিত থেকে হুইলচেয়ার সরবরাহ করেন, আর অংশগ্রহণকারী শিশুরা নিজেদের তৈরি হস্তশিল্প দিয়ে প্রতিদান জানায়।
এই অনুষ্ঠানটি সিএসএফ গ্লোবাল নামের একটি সামাজিক সংগঠন আয়োজন করে, যার লক্ষ্য হল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণদের সঙ্গে সমাজের নেতাদের সংযোগ স্থাপন করা। সংগঠনটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও দাতাদের সমন্বয়ে কাজ করে, এবং এইবারের উদ্যোগে হুইলচেয়ার ও হস্তশিল্পের বিনিময়কে কেন্দ্র করে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
হুইলচেয়ারগুলো স্থানীয় দাতাদের সমর্থনে সংগ্রহ করা হয় এবং সরাসরি শিশুরা ও কিশোরদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। উপহারপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পরিবারে চলাচল সীমিত হওয়ায় এই সরঞ্জামগুলো দৈনন্দিন জীবনে বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপহার বিতরণের পর, অংশগ্রহণকারী শিশুরা “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ” গানের মাধ্যমে উপস্থিত নেতাদের সম্মান জানায় এবং অনুষ্ঠানকে উজ্জ্বল করে তোলার জন্য তাদের কণ্ঠস্বর শেয়ার করে।
তারেক রহমান অনুষ্ঠান চলাকালীন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের অবহেলা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই শিশুরা প্রায়শই ঘরে বন্দী অবস্থায় থাকে এবং তাদের প্রতিভা সমাজের নজরে না আসায় তারা পিছিয়ে থাকে। তিনি বলেন, এই বাধাগুলো দূর করে তাদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে যুক্ত করা উচিত।
জোবায়দা রহমানও উপস্থিত শিশুদের সৃজনশীলতা ও শিল্পকর্মে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিশুরা গান, কবিতা ও লেখালেখির মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করছে এবং ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকা ও সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সিএসএফ গ্লোবালের চেয়ারম্যান এম এ মুহিতের সংযোজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা, পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কাহালু-নন্দিগ্রামের ধানের শীষের প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী একত্রে শিশুদের জন্য একটি উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করেন।
অনুষ্ঠানের পর, তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা বগুড়া বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমা নামাজ আদায় করেন। নামাজের সময় তিনি মা খালেদা জিয়া ও সমগ্র দেশের জন্য প্রার্থনা করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে গভীর সম্মান জাগায়।
মসজিদে তারেক রহমান মসজিদের নির্মাণ কাজের সূচনা নিজেই করেছেন, তবে মাঝপথে বিভিন্ন বাধা ও বিদেশে থাকার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন থেকে অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করে মসজিদকে আধুনিক রূপে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ।
বিকেলের দিকে তারেক রহমান রংপুরে নির্ধারিত নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণের জন্য রওনা হন। রওনা হওয়ার আগে তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগগুলোকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণ এবং তাদের হস্তশিল্পের প্রদর্শন, বিএনপির জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এই ধরনের মানবিক কাজের মাধ্যমে দলটি অক্ষম জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায়, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটার ভিত্তি বিস্তারে সহায়তা করতে পারে।
অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।



