শুক্রবার বিকাল প্রায় সাড়ে একারোটা টায় ফেনী শহরের সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি ‘রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে’ এমন ঐতিহ্যিক ধারা বদলাতে চাইছেন বলে উল্লেখ করেন এবং সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
শফিকুর রহমানের ভাষণে অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি, ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র এবং দুর্নীতির দোষারোপ করা হয়। তিনি বলেন, এসব প্রথা দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং এখন তা লাল কার্ড দেখিয়ে থামাতে হবে। তার মতে, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষকে সমান অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি এবং এ লক্ষ্যে কোনো বাধা তার দলকে থামাতে পারবে না।
জনসভায় তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতার উদাহরণ তুলে ধরে সতর্ক করেন। শীতের দিনে গরম মাথা রাখলে চৈত্র মাসে কী হবে, এ প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানান। তিনি অতীতের শহীদদের সম্মান ও গুলির সামনে সাহসিকতা দেখানো যোদ্ধাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের গুরুত্বেও জোর দেন।
নারী ও মায়ের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বললেন, কিছু জায়গায় মা-বোনদের প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। তিনি সকলকে নিজেরা মা-বোনকে সম্মান করতে বলার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার সব মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লিঙ্গ সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট চাওয়ার সময় তিনি দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীককে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং কোনো একক ব্যক্তি বাদ না পড়ে।
জনসভা শুরু হওয়ার আগে স্লোগান গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, যেখানে উপস্থিত সমর্থকরা দলীয় নীতি ও লক্ষ্যকে উত্সাহের সঙ্গে উচ্চারণ করছিলেন। শফিকুর রহমান মঞ্চে উঠে ১১টা ১২ মিনিটে তার বক্তব্য শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে শেষ করে তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীকী বস্তু প্রদান করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের কষ্ট ও ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তাদের ভূমিকা স্বীকার করেন। তিনি সকলকে একসাথে কাজ করে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।
সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির পরিচালক এ টি এম মা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের নির্বাচনী কৌশল ও সংগঠনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য শেয়ার করেন।
এই জনসভা জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে দলীয় নীতি, ধর্মীয় সমতা, নারী সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
শফিকুর রহমানের ভাষণে দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক সংস্কার, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে দলীয় সদস্য, সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিকের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
জনসভার পরবর্তী ধাপ হিসেবে দলটি নির্বাচনী প্রার্থী নির্বাচন, প্রচারাভিযান পরিকল্পনা এবং ভোটার সংযোগের কাজ ত্বরান্বিত করবে বলে জানানো হয়েছে। শফিকুর রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে দলীয় কর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেবে।
সামগ্রিকভাবে, ফেনীর এই জনসভা জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক নীতি এবং নির্বাচনী কৌশলকে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।



