গাজা অঞ্চলে ইসরাইল ১৫ ফিলিস্তিনির দেহ হস্তান্তর করেছে, যা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের পর জিম্মি উদ্ধার তৃতীয় দিনে সম্পন্ন হয়েছে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা সহজ করবে।
গত সোমবার ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে রন গভিলি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার দেহ উদ্ধার করে, যিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে আটকা পড়া ২৫১ ইসরাইলি জিম্মিদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন। গভিলি ছিলেন শেষ পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরাইলি জিম্মি, যা এই দীর্ঘমেয়াদী জিম্মি বিনিময়ের শেষ দিক নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে যে, রন গভিলির দেহ পুনরুদ্ধারের পর তারা ইসরাইল থেকে গাজায় ১৫ ফিলিস্তিনির দেহ সরবরাহ করেছে। সংস্থা এটিকে মাসব্যাপী পরিচালিত অপারেশনের সমাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আইসিআরসি-র আঞ্চলিক প্রধান জুলিয়েন লেরিসন উল্লেখ করেন, পরিবারগুলোকে তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে পুনর্মিলন করার সুযোগ পেয়ে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। ফেরত দেওয়া দেহগুলোকে পূর্ণ মর্যাদায় শোক পালন করার সুযোগ হিসেবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া প্রথম চুক্তির অধীনে হামাস ২০ জীবিত জিম্মি মুক্তি দিয়েছে, আর ইসরাইল ১,৮০৮ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্ত করেছে। পরবর্তীতে ২৮ মৃত জিম্মির মধ্যে ২৭ জন এবং ৩৬০ ফিলিস্তিনির দেহ পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হয়।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হস্তান্তরিত দেহগুলো গ্রহণ করেছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬০ দেহের মধ্যে মাত্র ৯৯টি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
শনাক্ত না হওয়া দেহগুলোকে গণকবরে দাফন করতে বাধ্য হচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা, যা মানবিক চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে তুলেছে।
যুদ্ধবিরতি যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বজায় আছে, তবে মাঠে অস্থিরতা অব্যাহত। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে এক সশস্ত্র যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলায় আরেকজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহু injured হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি আক্রমণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি এখনও বাড়ছে।
ইউএন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ইসরাইলের দেহ হস্তান্তরকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তবে স্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তুতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, দেহ হস্তান্তরের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে এবং বাকি জিম্মি ও দেহের বিনিময়ের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে গাজার মানবিক সংকটের তীব্রতা কমে যাবে এবং অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি গড়ে উঠবে।



