‘ধুরন্ধর’ সিনেমা নেটফ্লিক্সে প্রকাশের পর ৯ মিনিটের অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। থিয়েটার সংস্করণে ৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিটের সময়কাল ছিল, আর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তা ৩ ঘন্টা ২৫ মিনিটে সীমাবদ্ধ। এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্রের মূল কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে বলে দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।
থিয়েটারে প্রদর্শিত ‘ধুরন্ধর’ ৩ ঘণ্টা ৩৪ মিনিটের পূর্ণ দৈর্ঘ্য নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়। নেটফ্লিক্সে আপলোডের সময় এই সময় থেকে মোট নয় মিনিট কমিয়ে ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে মূল কাহিনীর কিছু দৃশ্য ও সংলাপ বাদ পড়েছে।
নেটফ্লিক্সের এই কাটছাঁটের কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে জানানো হয়েছে যে, চলচ্চিত্রের পরিচালক আদিত্য ধরের অনুমতি ছাড়াই নেটফ্লিক্স একতরফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
‘ধুরন্ধর’ প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় ৫ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকে দেশব্যাপী বহু থিয়েটারে চলমান রয়েছে এবং টিকিট বিক্রির হার এখনও উচ্চ। ছবিটি হিন্দি ভাষার সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের শিরোপা অর্জন করে প্রায় ৯০০ কোটি রুপি দেশের বক্স অফিসে সংগ্রহ করেছে। বিশ্বব্যাপী মোট আয় ১৩০০ কোটি রুপিরও বেশি, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তার সাফল্যকে নির্দেশ করে।
চলচ্চিত্রের উৎপাদন জিও স্টুডিওস এবং B62 স্টুডিওসের যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে। গল্পটি একটি ভারতীয় গোপন গোয়েন্দার ওপর ভিত্তি করে, যাকে রণবীর সিং অভিনয় করেছেন। তিনি করাচির ল্যারি এলাকায় অবস্থিত অপরাধ জগতের মধ্যে প্রবেশ করে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে বাধা দিতে চেষ্টা করেন। ছবিতে অক্ষয় খন্না, অর্জুন রামপাল, সংযে দত্ত, সারা অরজুন এবং রাকেশ বেদি সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের উপস্থিতি রয়েছে।
ফ্যানদের মধ্যে এই কাটছাঁট নিয়ে ব্যাপক হতাশা দেখা গেছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য সিনেমা উপভোগ করা দর্শকরা মূল সংস্করণে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। নেটফ্লিক্সের এই সিদ্ধান্তের ফলে চলচ্চিত্রের সামগ্রিক বর্ণনায় ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিক তথ্য না থাকলেও, এই ধরনের সম্পাদনা সাধারণত সময়সীমা বা কন্টেন্ট নীতি মেনে চলার জন্য করা হয়। তবে ‘ধুরন্ধর’ এর মতো বিশাল বাজেটের এবং বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জনকারী চলচ্চিত্রে এমন পরিবর্তন দর্শকের প্রত্যাশা ও শিল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।
চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ প্রদর্শনী এবং স্ট্রিমিং সংস্করণে কীভাবে সমন্বয় করা হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে ‘ধুরন্ধর’ এর বক্স অফিস সাফল্য এবং তার গল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে, দর্শকরা মূল সংস্করণটি থিয়েটারে দেখতে আগ্রহী থাকবে বলে ধারণা করা যায়।



