বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির শাফিকুর রহমান আজ ফেনি শহরে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে বংশগত রাজনীতির চক্র ভাঙার এবং মেধা ভিত্তিক শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের শাসনব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যেখানে কোনো পরিবারের সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদে আসবে না; রিকশা চালকের সন্তানও ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।
বক্তা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, শীতের তাপমাত্রা কমে গেলে শীতলতা হারালে গ্রীষ্মের চৈত্রে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে তা অনিশ্চিত। তিনি জুলাই মাসের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে এবং শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাতে সবাইকে আহ্বান জানান, কারণ বিভিন্ন পেশা ও স্তরের মানুষ বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে।
মহিলাদের প্রতি আক্রমণ ও অপমানের ঘটনাকে কঠোরভাবে নিন্দা করে শাফিকুর বলেন, নিজের মা ও বোনকে সম্মান করলে পুরো বাংলার নারীদের সম্মান করা সম্ভব হবে। তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্ক করেন, যদি কেউ মায়ের মর্যাদা হ্রাস করে, তবে আল্লাহর সিংহাসন নড়ে যাবে এবং সেই ব্যক্তি ধ্বংসের মুখে পড়বে।
শক্তি ও পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে তিনি আগস্ট ২০২৪-এ ফেনি জেলায় বন্যা এবং বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের মৃত্যুকে স্মরণ করেন। আবরার ফাহাদকে ফেনি নদীর অবস্থা নিয়ে কথা বলার জন্য গুলি করা হয়েছিল; শাফিকুর অনুরোধ করেন, ফেনি অঞ্চলে তার স্মৃতি চিরকাল হৃদয়ে সংরক্ষণ করা হোক।
পাশের দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সংলাপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও গঠনমূলক আলোচনা দিয়ে সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব, ইন শা আল্লাহ। দেশের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বকে তিনি নিজের অধিকার ও কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন, যা উপেক্ষা করা যায় না।
ফেনির জাতীয় অর্থনীতিতে অবদানের কথা উল্লেখ করে শাফিকুর প্রতিশ্রুতি দেন, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে কোনো একটিকেই সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত করা হবে না। বর্তমানে ৩১টি জেলায় মেডিকেল কলেজের অভাব রয়েছে; তিনি প্রতিটি জেলা সদর দফতরে বিশেষায়িত হাসপাতালের স্থাপনাও নিশ্চিত করার কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ও ১১টি দলের জোটের সমর্থনকে তুলে ধরেন, একক দলের নয়। ভোটারদের আহ্বান জানান, জোটের প্রার্থীরা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে এবং যে কোনো অভিযোগ বা মতামত শোনার জন্য প্রস্তুত আছেন।
প্রতিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীও বংশগত রাজনীতির বিরোধিতা করে এবং মেধা ভিত্তিক নেতৃত্বের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে, যা শাফিকুরের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, এবং এই লক্ষ্য অর্জনে জামায়াতে ইসলামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।



