বাংলাদেশ সরকার গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে ফার্স্ট সেক্রেটারি স্তরের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। সিদ্ধান্তটি বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য গায়ানার দ্রুতবর্ধমান অর্থনীতিতে বাংলাদেশি শ্রমিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
বৈঠকটি উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মোট ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদিত হয়। গায়ানায় কূটনৈতিক মিশন গঠনের সিদ্ধান্তও এই অনুমোদিত আইটেমগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গায়ানা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। গত বছর গায়ানার জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ ছিল, যা শ্রমবাজারের দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি শ্রমিক ও পুঁজি প্রবেশের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তাই মিশন স্থাপনকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
মিশনের কর্মী নিয়োগের জন্য বিদ্যমান বাংলাদেশি দূতাবাস ও অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন থেকে প্রয়োজনীয় কর্মী সংগ্রহ করা হবে। এতে নতুন কর্মী প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় কর্মসংস্থান সুযোগ উভয়ই সমন্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার এই ব্যবস্থা মাধ্যমে গায়ানার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি উপস্থিতি দ্রুত বাড়াতে চায়।
বৈঠকে গৃহীত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ‑২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ‑২০২৬ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ‑২০২৬। এছাড়া বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ‑২০২৬, আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫‑২০২৮, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ‑২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ‑২০২৬ অন্তর্ভুক্ত।
এই সকল আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি, প্রতি বছর ২৩ মার্চ ‘বিএনসিসি দিবস’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এই দিনটি জাতীয় সিভিল সার্ভিসের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।
গায়ানায় কূটনৈতিক মিশন গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। মিশনটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। সরকার এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দেখছে।
উল্লেখযোগ্য যে, গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশি কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানো ভবিষ্যতে দু’দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে মিশনের সুনির্দিষ্ট কাঠামো, কর্মী তালিকা এবং কার্যক্রমের সূচি শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।



