ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির, ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় ঘোষণা করেন যে, প্রতিবেশী ভারত সরকারের সঙ্গে সফল আলোচনার পর ফেনীর দীর্ঘদিনের পানির সংকট সমাধানের জন্য একটি নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি দেশের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
জনসভায় উপস্থিত বিশাল ভিড়ের মাঝে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এই সমাবেশে ১১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ফেনী-১ ও ফেনী-২ আসনের প্রার্থীদের সমর্থন জানাতে একত্রিত হয়েছে। সমাবেশের সময় তিনি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিশদে কথা বলেন।
বক্তব্যের মাঝখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে বন্যা জলে ফেনী যখন সমুদ্রে রূপান্তরিত হয়েছিল, তখন তিনি নিজে পানির মধ্যে ঝাঁপিয়ে গিয়ে মানুষদের সাহায্য করেন। এই স্মৃতি তার বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, বাঁধের বিষয়টি এখন কেবল স্থানীয় সমস্যার বাইরে গিয়ে জাতীয় গর্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, ভারত সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একটি টেকসই সমাধান বের করা হবে।
বক্তব্যের সময় তিনি শিহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে এক বিশেষ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র ফাহাদ দেশের পানির অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলায় তার জীবন দান করতে বাধ্য হয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমান ফাহাদের ত্যাগকে ফেনী বাসীর হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ ফাহাদের মৃত্যুর দায়িত্ব তিনি “আধিপত্যবাদীর দোসররা”কে দেন, যারা সত্যকে সহ্য করতে না পেরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাঁধের পাশাপাশি ডা. শফিকুর রহমান ফেনীর উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ফেনীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, পাশাপাশি ফেনী স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দেন। এসব প্রকল্পকে তিনি স্থানীয় কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
নির্বাচনী বার্তায় তিনি ভোটারদের প্রথম ভোট স্বাধীনতার পক্ষে, দ্বিতীয় ভোট সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে দিতে আহ্বান জানান। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ কল্পনা করেন যেখানে বংশপরম্পরায় শাসন ব্যবস্থার সংস্কৃতি ভেঙে, রিকশা চালকের সন্তানও নিজের মেধা দিয়ে একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।
সমাবেশে তিনি ফেনী-১ আসনের জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের হাতে “দাঁড়িপাল্লা” এবং ফেনী-২ আসনের জোটের প্রার্থী জহিরুল ইসলামের হাতে “ঈগল” প্রতীক তুলে দিয়ে উভয় প্রার্থীর ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা নিশ্চিত করেন। এই প্রতীকী উপস্থাপনাকে তিনি জোটের একতা ও বিজয়ের সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ১১টি দল এখন সম্পূর্ণ সমন্বয়ে কাজ করছে এবং এই জোটের জয় নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জোটের সমন্বিত কৌশলকে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
বাঁধ প্রকল্পের ঘোষণার ফলে ভারত‑বাংলাদেশ জলবণ্টন আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এই পদক্ষেপটি উভয় দেশের মধ্যে পানির ভাগাভাগি নিয়ে চলমান আলোচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং নির্বাচনী সময়ে ফেনী অঞ্চলের ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই প্রতিশ্রুতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে, যা স্থানীয় উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক জলসম্পর্ক এবং রাজনৈতিক সংহতির মিশ্রণ ঘটিয়ে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।



