26 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমাহফুজ আলমের মন্তব্যে জামাত ও আওয়ামী লীগের পারস্পরিক নির্ভরতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক...

মাহফুজ আলমের মন্তব্যে জামাত ও আওয়ামী লীগের পারস্পরিক নির্ভরতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

জুলাই ২০২১ অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম, ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনৈতিক গঠন ও আসন্ন ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামাত এবং আওয়ামী লীগ একে অপরের বিকল্প হিসেবে কাজ করে, ফলে দু’টি দলই একসঙ্গে টিকে থাকে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংস্কারের অগ্রগতি, পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনসাধারণের আস্থার হ্রাস নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনার জন্য কেবল কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়।

মাহফুজ আলমের মতে, জামাতের বাংলাদেশ‑এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্বচ্ছ ভিশন বা পরিকল্পনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি দেশের উন্নয়ন ও শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করতে ব্যর্থ।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামাতও টিকে থাকবে এবং উল্টোটা সত্য। দু’টি দলকে তিনি একই রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেন, যেখানে একটির অস্তিত্ব অন্যটির অস্তিত্বকে নিশ্চিত করে।

আসন্ন ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি এই পারস্পরিক নির্ভরতাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই দুই দলের একসঙ্গে থাকা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যকে একঘেয়ে করে তুলতে পারে।

মাহফুজ আলম জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামাতের বাইরে একটি শক্তিশালী তৃতীয় বিকল্প গড়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ন্যাশনাল পার্টি (এনসিপি) যখন পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামাতের সঙ্গে জোট গঠন করে, তখন সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

জামাতের সঙ্গে জোট গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব গোষ্ঠী জোট করেছে তারা পুরোনো কাঠামোর অংশ। এমন জোটে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন, যা নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আদর্শিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির দিক থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে মত দেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জামাতের মেলবন্ধন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো কাঠামোর উপর নির্ভরশীল জোটগুলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।

মাহফুজ আলম ভবিষ্যৎ সরকারকে সতর্ক করেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক—বিএনপি বা জামাত—সমাজের ভেতরে সৃষ্ট ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো শাসনকাল টিকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার কেবল নথিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবিকভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিন্ন মত ও ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা না হলে মব সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকবে। তাই কেবল আইনগত সংস্কার নয়, সামাজিক সংহতি গড়ে তোলার জন্য আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ অপরিহার্য।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন, জনসাধারণের মিডিয়ার প্রতি আস্থা হ্রাস পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, মিডিয়াকে তাদের অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করতে হবে, যাতে পুনরায় বিশ্বাস অর্জন করা যায়।

বর্তমানে মাহফুজ আলম রাজনীতির বাইরে থেকে বই পড়া ও হতাশ যুবকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সময় ব্যয় করছেন। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো কেন বাস্তবায়িত হয়নি তা বুঝতে চেষ্টা করছেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে হবে তা নিয়ে ভাবনা প্রকাশ করছেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments