২৭ বছর বয়সী দ্রুতগামী পেসার বেন সিয়ার্স নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তার অন্তর্ভুক্তি আসে অ্যাডাম মিল্নের চোটের ফলে মূল স্কোয়াডে স্থান ফাঁকা হওয়ার পর। দলটি ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে।
সিয়ার্সের মূল স্কোয়াডে না থাকার প্রধান কারণ ছিল অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজে হ্যামস্ট্রিং চোট। সেই চোটের পর তিনি বেশ কয়েক মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন এবং পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
চোট থেকে সুস্থ হয়ে শেষ মাসে তিনি দেশের সুপার স্ম্যাশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ফিরে আসেন। মোট নয়টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১৫টি উইকেট সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে চূড়ান্ত ম্যাচে এককভাবে চারটি উইকেট নেন। এই পারফরম্যান্স তাকে আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রস্তুত দেখিয়েছে।
অ্যাডাম মিল্নের চোটের ফলে কোচিং স্টাফ কাইল জেমিসনকে মূল স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। জেমিসনের জায়গায় সিয়ার্সকে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে নির্বাচন করা হয়, যাতে কোনো পেসার অতিরিক্ত চোটে পড়লে দ্রুত বিকল্প পাওয়া যায়।
সিয়ার্স আগামী বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। এই ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিকল্পিত, যেখানে তিনি মাঠে উপস্থিতি এবং শারীরিক প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবেন।
নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপে তাদের সঙ্গী থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কানাডা, ফলে দলকে বহুমুখী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।
সিয়ার্সের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা ২২টি ম্যাচে সীমাবদ্ধ, যেখানে তিনি বিভিন্ন শর্তে দ্রুত গতি এবং সঠিক লাইন বজায় রেখেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে রিজার্ভ হিসেবে দলের গভীরতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
ট্রাভেলিং রিজার্ভের ভূমিকা হল মূল স্কোয়াডের কোনো পেসার যদি চোটে পড়ে বা ফর্মে না থাকে, তখন তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন করা। সিয়ার্সের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে তিনি এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত।
কোচিং স্টাফের মতে, সিয়ার্সের সুপার স্ম্যাশে অর্জিত উইকেট সংখ্যা এবং তার গতি পুনরুদ্ধার দলকে অতিরিক্ত বিকল্প প্রদান করে। যদিও তিনি এখনও মূল স্কোয়াডে নেই, তবে তার উপস্থিতি পেসারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
দলটি মুম্বাইয়ে দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে শারীরিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে। এই ম্যাচগুলোতে পেসারদের পারফরম্যান্স এবং ব্যাটিং লাইনআপের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হবে।
প্রস্তুতি ম্যাচের পর দলটি চেন্নাইয়ে স্থানান্তরিত হবে, যেখানে গ্রুপের প্রথম ম্যাচের আগে শেষ রিহার্সাল অনুষ্ঠিত হবে। সিয়ার্সের উপস্থিতি এই রিহার্সালে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি মাঠে দ্রুত পরিবর্তন করতে সক্ষম।
নিউজিল্যান্ডের পেসার গোষ্ঠী এই টুর্নামেন্টে গভীরতা বজায় রাখতে চায়, যাতে চোট বা ফর্মের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক না থাকে। সিয়ার্সের মতো তরুণ পেসারদের অন্তর্ভুক্তি এই পরিকল্পনার মূল অংশ।
বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহে দলটি শক্তিশালী ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সঠিক বলিং অপশন বজায় রাখতে চায়। রিজার্ভের উপস্থিতি কোচদের কৌশলগত নমনীয়তা বাড়াবে এবং ম্যাচের চাপ কমাবে।
সিয়ার্সের পুনরায় দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিউজিল্যান্ডের টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে পেসারদের ব্যাকআপ হিসেবে। তার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে দলটি শেষ পর্যন্ত কীভাবে অগ্রসর হবে তা নির্ধারিত হবে।



