বগুড়ার চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের বলরুমে শুক্রবার দুপুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তারেকের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ার সরবরাহ করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শিশুরা ও কিশোরদের নিজস্ব তৈরি হস্তশিল্পের উপহার, যা তারা সরাসরি চেয়ারম্যানের হাতে উপস্থাপন করে। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারী শিশুরা “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ” গানটি গেয়ে উপস্থিতদের সামনে পরিবেশন করে, যা তাদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে প্রশংসিত হয়।
এই উদ্যোগের পেছনে সিএসএফ গ্লোবাল নামের একটি সংস্থা রয়েছে, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করে। সংস্থার চেয়ারম্যান এম এ মুহিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন ও সঞ্চালনা করেন, এবং উপস্থিত সকলকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার গুরুত্ব সম্পর্কে জানিয়ে দেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম (বাদশা), এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি রাজনৈতিক সমর্থন ও সামাজিক দায়িত্বের সমন্বয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষে, তারেক রহমান বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুমা নামাজ আদায়ের পর রংপুরের দিকে রওনা হন। রংপুরে তিনি স্থানীয় দলের সঙ্গে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগকে বিএনপির ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সহায়তা প্রদান করে দলটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক দায়িত্ব পালন করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে, বিরোধী দলগুলো এই ধরনের কার্যক্রমকে রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করে, এবং দাবি করে যে বাস্তব সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রণয়নই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বগুড়া ও রংপুরের মতো নির্বাচনী গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এমন সামাজিক ইভেন্টগুলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অক্ষমতা সম্পন্ন নাগরিকদের সমর্থন অর্জন করা দলকে সামাজিক দায়িত্বের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও কিশোরদের জন্য হুইলচেয়ার সরবরাহের পাশাপাশি, তাদের সৃষ্টিশীল কাজের স্বীকৃতি ও প্রশংসা করা হয়েছে। সিএসএফ গ্লোবালের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, বগুড়ায় অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টটি সামাজিক সহায়তা, রাজনৈতিক সমর্থন ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি মডেল হিসেবে উদাহরণ স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হলে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।



