মাইক্রোসফট এবং মেটা এই সপ্তাহে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল শেয়ার বাজারে তীব্র দোলন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার উভয় কোম্পানির আয় প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা AI ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।
মেটা, যা ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান, বিক্রয় শক্তি দেখিয়ে শেয়ার মূল্যে প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ার মূল্য ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বাজারে সতর্কতা সঞ্চারিত করেছে।
মেটার ত্রৈমাসিক আয় ডিসেম্বর মাসের ত্রৈমাসিকে ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রধানত বিজ্ঞাপন লক্ষ্যবস্তুতে AI প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার ফলে সম্ভব হয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে কোম্পানি প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য আশাব্যঞ্জক আয় পূর্বাভাস দিয়েছে।
AI-চালিত বিজ্ঞাপন সেবা মেটার আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখায়, কোম্পানি এই বছরের মূলধন ব্যয়কে ৮৭ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে। এই ব্যয় বৃদ্ধি AI গবেষণা ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ইঙ্গিত দেয়।
মেটার আর্থিক ফলাফল বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে: AI-তে ব্যয় বাড়লেও আয় বৃদ্ধি হলে বিনিয়োগকারীরা তা স্বাগত জানায়। ফলে মেটা ভবিষ্যতে AI-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার সম্প্রসারণে আত্মবিশ্বাসী হতে পারে।
মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে, ক্লাউড সেবা Azure-এ আয় বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার চেয়ে সামান্য বেশি ছিল, তবে তা বাজারের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলস্বরূপ শেয়ার মূল্যে তীব্র পতন দেখা গেছে।
মাইক্রোসফটের AI ব্যয় এখনো উচ্চ মাত্রায় রয়েছে, বিশেষ করে ওপেনএআই-তে বিনিয়োগের মাধ্যমে। কোম্পানি ২০২৪ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ মূল্যের প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল, তবে এখন বিনিয়োগকারীরা এই ব্যয়ের যুক্তি ও ফলাফল সম্পর্কে কঠোর প্রশ্ন তুলছে।
ওপেনএআই মাইক্রোসফটের ক্লাউড ব্যাকলগের ৪৫ শতাংশ অংশ গঠন করে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষত ওপেনএআইয়ের অপ্রতিদানশীল মডেল বিকাশের গতি ধীর হলে প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে।
ডিসেম্বরে গুগল Gemini 3 চালু হওয়ার পর ওপেনএআই অভ্যন্তরীণভাবে “কোড-রেড” সতর্কতা জারি করেছিল। বর্তমানে ওপেনএআই AI কোডিং ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিকের ক্লড কোডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে, যা বার্ষিক রেটের দিক থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজারের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: AI-তে ব্যয় বাড়লেও তা আয় ও বৃদ্ধিতে রূপান্তরিত হলে বিনিয়োগকারীরা স্বাগত জানায়, আর ব্যয় সত্ত্বেও ফলাফল না হলে শেয়ার মূল্যে তীব্র পতন ঘটে। মেটা এবং মাইক্রোসফটের বর্তমান পারফরম্যান্স এই প্রবণতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
ভবিষ্যতে মেটা AI-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন ও সেবা সম্প্রসারণে মনোযোগ বাড়িয়ে মূলধন ব্যয় বাড়াতে পারে, যা আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে বাজারের সমর্থন বজায় থাকবে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটকে Azure ও ওপেনএআই প্রকল্পে বাস্তবিক ফলাফল প্রদর্শন করে বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, এই সপ্তাহের ফলাফল দেখিয়েছে যে AI ব্যয় ও আয় বৃদ্ধির মধ্যে সমন্বয় বিনিয়োগকারীর মনোভাব নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে। উভয় কোম্পানির জন্য পরবর্তী ত্রৈমাসিকের পারফরম্যান্সই হবে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল করার চাবিকাঠি।



