ওয়াশিংটন ডি.সি.-এর কেএনেডি সেন্টারে ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্টীয় শপথের কয়েক দিন আগে মেলানিয়া ট্রাম্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাজন এমজি এম স্টুডিওসের প্রযোজনা এই চলচ্চিত্রটি প্রথম নারী সঙ্গীর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে এবং অনুষ্ঠানটি বিনোদন ও সংস্কৃতি অনুষদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
উদ্বোধনী গালা রাতের রেড কার্পেটে উপস্থিত অতিথিরা চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুকে “মানবিক”, “উজ্জ্বল”, “সহানুভূতিশীল” এবং “বুদ্ধিমান” ইত্যাদি শব্দে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে “অপ্রতিদ্বন্দ্বী” শব্দটি চলচ্চিত্রের স্কেল ও প্রভাবকে প্রকাশ করতে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের অধিগ্রহণমূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলার মার্কেটিং ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এই পরিমাণের বিনিয়োগকে দেশের সর্বোচ্চ বাজেটের ডকুমেন্টারি প্রকল্পগুলোর মধ্যে গণ্য করা হচ্ছে।
কেএনেডি সেন্টারের অভ্যন্তরে মেলানিয়া ট্রাম্পের নাম বিশাল ব্যানার ও সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত হয়েছে; আমন্ত্রণপত্রে এটিকে “ট্রাম্প‑কেএনেডি সেন্টার” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জানালার ফ্রেম, দেয়াল এবং সিঁড়ির ধাপগুলোতে একই নামের আলোকসজ্জা জ্বলে উঠেছে, যা উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রদর্শনী শেষে ৩৪ মিনিটের একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প দুজনেই কালো কার্পেটের ওপর মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রশ্নকারী মিডিয়া আউটলেটগুলোতে প্রধানধারার পাশাপাশি রাইট‑ওয়িং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সেশনটি শুরু করার মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, “আজকের রাত মেলানিয়ার জন্য।” এরপর তিনি তার স্ত্রীর প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করে জানান, “তিনি এমন একজন যাকে আমি নির্ভর করি। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলি, কেউ কেউ শোনি, কেউ নয়, তবে তার প্রভাব অপরিসীম।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মেলানিয়ার রাজনৈতিক ও পারিবারিক ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
মেলানিয়া ট্রাম্পও মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে চলচ্চিত্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই ডকুমেন্টারিটি সকল নারীর জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। কিশোরী থেকে শুরু করে তরুণী পর্যন্ত, প্রত্যেকেই নিজের স্বপ্ন ও ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে এই গল্প থেকে শিখতে পারে।” তার কথায় চলচ্চিত্রের সামাজিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত শিল্প ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের মন্তব্যে দেখা যায়, এই ডকুমেন্টারিটি শুধু রাজনৈতিক প্রোফাইল নয়, বরং আধুনিক নারীর স্বায়ত্তশাসন ও নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
শপথের আগে এই ধরনের বড় স্কেলের সাংস্কৃতিক ইভেন্টের আয়োজনকে কিছু বিশ্লেষক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি মূলত মেলানিয়া ট্রাম্পের ব্যক্তিগত যাত্রা ও তার সামাজিক অবদানের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
ডকুমেন্টারির প্রচারমূলক কার্যক্রমে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে; টিজার ভিডিও ও পোস্টারগুলোতে মেলানিয়ার ছবি ও উক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রচারাভিযানটি চলচ্চিত্রের দর্শকসংখ্যা বাড়াতে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে লক্ষ্য রাখে।
সারসংক্ষেপে, কেএনেডি সেন্টারে মেলানিয়া ট্রাম্পের ডকুমেন্টারির উদ্বোধনী প্রদর্শনী একটি বৃহৎ আর্থিক বিনিয়োগ, বিশাল ব্র্যান্ডিং এবং উচ্চ-প্রোফাইল রাজনৈতিক উপস্থিতি সমন্বিত ইভেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়ে দর্শকদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য রাখে এবং শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন থিয়েটার ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হবে।



