নাগ অশ্বিনের পরিচালিত “ক্যালকি ২৮৯৮ এডি” সিক্যুয়েল থেকে দীপিকা পাদুকোনের প্রস্থান নিশ্চিত হওয়ায় কাস্টিং নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। বর্তমানে সাই পল্লবীর নাম সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উল্লিখিত হচ্ছে। এই পরিবর্তন চলচ্চিত্রের গল্পের ধারায় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
দীপিকা পাদুকোন প্রথম অংশে সমাথি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তিনি ক্যালকি অবতারকে গর্ভে বহন করছিলেন। সিক্যুয়েলে একই চরিত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন অভিনেত্রীর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাই কাস্টিং সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিকভাবে আলিয়া ভাটকে সমাথি ভূমিকায় দেখতে পাওয়া যাবে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরবর্তী তথ্য থেকে জানা যায়, আলিয়া ভাটের নাম ওই ভূমিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। এই ভুল তথ্যের ফলে সাই পল্লবীর সম্ভাবনা আরও উন্মোচিত হয়েছে।
সাই পল্লবীর নাম উত্থাপনের পেছনে একটি সূত্রের ইঙ্গিত রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে তিনি এই ভূমিকায় আসতে পারেন। একই সঙ্গে, দলটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং ভূমিকা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে। ফলে কাস্টিং প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
নাগ অশ্বিনের দৃষ্টিকোণ থেকে “ক্যালকি ২৮৯৮ এডি” সিরিজটি হিন্দু ধর্মের দশম অবতার ক্যালকি সম্পর্কে ভিত্তিক। ক্যালকি অবতার কালি যুগের শেষের দিকে পৃথিবীতে অবতরণ করবে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই ধর্মীয় ধারণা চলচ্চিত্রের মূল থিম হিসেবে কাজ করছে।
প্রথম চলচ্চিত্রে সমাথি গর্ভে ক্যালকি অবতারকে ধারণ করে, যা মানবজাতির পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। গল্পের এই অংশটি দর্শকদের মধ্যে গভীর আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সিক্যুয়েলে এই ধারাকে কীভাবে সম্প্রসারিত করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সিক্যুয়েলে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করছেন প্রভাস এবং অমিতাভ বচ্চন। প্রভাসের চরিত্রকে বাউন্টি হান্টার হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যিনি সমাথি ও তার গর্ভে থাকা শিশুকে রক্ষা করার দায়িত্বে আছেন। অমিতাভ বচ্চন মহাভারতের অশ্বত্থাম চরিত্রে অভিনয় করছেন, যাকে অমরত্বের শাপ প্রাপ্ত।
প্রভাসের বাউন্টি হান্টার চরিত্রটি কঠিন পরিস্থিতিতে সমাথিকে রক্ষা করতে বাধ্য হয়। তার মিশনটি শত্রু শক্তির আক্রমণ থেকে গর্ভে থাকা শিশুকে রক্ষা করা। এই সংঘর্ষ চলচ্চিত্রের অ্যাকশন ও নাটকীয়তা বাড়িয়ে তুলবে।
অমিতাভ বচ্চনের অশ্বত্থাম চরিত্রটি মহাভারতের এক কিংবদন্তি যোদ্ধা, যাকে শাপের ফলে অমরত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি সিক্যুয়েলে বিরোধী শক্তির প্রতিনিধিত্বকারী চরিত্র হিসেবে উপস্থিত। তার উপস্থিতি গল্পে অতিপ্রাকৃত ও ঐতিহাসিক মাত্রা যোগ করে।
সিক্যুয়েলের শুটিং কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, তবে কাস্টিং সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অমীমাংসিত। দলটি সমাথি চরিত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করছে। তাই সাই পল্লবীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলেও সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
যদি সাই পল্লবী এই ভূমিকায় যোগ দেন, তবে তিনি সমাথির গর্ভধারণের পরবর্তী পর্যায়ে চরিত্রের বিকাশকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে পারবেন। অন্যদিকে, ভূমিকা বাদ দিলে গল্পের ধারায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই দর্শকের প্রত্যাশা উচ্চ।
বলিউডের এই বৃহৎ প্রকল্পে ধর্মীয় মিথ ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্রিত হয়েছে। দর্শকরা ক্যালকি অবতার এবং কালি যুগের সমাপ্তি সম্পর্কে নতুন ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন। তাই কাস্টিং সিদ্ধান্ত চলচ্চিত্রের বাণীকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, সাই পল্লবীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখনও অনুমানসাপেক্ষ। তবে চলচ্চিত্রের নির্মাণ দল এই সিদ্ধান্তকে গোপন রাখছে। ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য আপডেট হবে।
চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং গল্পের গভীরতা ইতিমধ্যে শিল্প সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কাস্টিং পরিবর্তন হলে এই উপাদানগুলোর সমন্বয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই শিল্পের অভ্যন্তরে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা, তবে ক্যালকি ২৮৯৮ এডি সিক্যুয়েলকে নিয়ে আলোচনা চলমান। দর্শক ও মিডিয়া উভয়ই নতুন কাস্টিং তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে এই নিবন্ধটি আপডেট করা হবে।



