নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য পিট’‑এর সিজন‑২‑এর চতুর্থ পর্বে ড. মাইকেল “রবি” রবিনাভিচের মানসিক স্বাস্থ্যের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। শোয়ের পূর্বের শেষ পর্বে রবি এক তীব্র মানসিক ভাঙনের পর শন হাটোসির চরিত্র ড. অ্যাবটের সঙ্গে ছাদে গভীর আলাপ করেন, যেখানে অ্যাবট তাকে থেরাপিস্টের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। তবে নতুন পর্বে দেখা যায়, রবি ঐ প্রচলিত থেরাপি পদ্ধতিগুলোকে তার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করেন না এবং সাম্প্রতিক দুইটি সেশনের পরই তা ত্যাগ করেন।
রবির মতে, তার সঙ্গে কাজ করা থেরাপিস্টরা তার “স্পিড”‑এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে তিনি নিজের জন্য এক ধরনের “জুম থেরাপি” হিসেবে এককথা সিদ্ধান্ত নেন: একটি দীর্ঘমেয়াদী মোটরসাইকেল ভ্রমণ। এই ভ্রমণকে তিনি মানসিক পুনর্নবীকরণের সুযোগ হিসেবে দেখেন, যা তার অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে সাময়িকভাবে দূর করবে বলে আশা করেন।
শোয়ের নির্মাতা ও অভিনেতা নোয়া ওয়াইল এই বিষয়টি নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ডাক্তারদের রোগী হিসেবে গ্রহণ করা প্রায়ই কঠিন হয়, কারণ তাদের পেশাগত দায়িত্ব সবসময় বাহ্যিক দিকে কেন্দ্রীভূত থাকে। আত্ম-পর্যালোচনা ও নিজের দুর্বলতাকে স্বীকার করা তাদের জন্য “প্যান্ডোরার বাক্স” খুলে দেয়, যা কাজের চাপ ও রোগীর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াইলের মতে, চিকিৎসকেরা যখন নিজেরা নির্ধারিত চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করতে অক্ষম হন, তখন তারা আত্ম-সন্দেহ ও ‘ইম্পোস্টার সিনড্রোম’‑এর মুখোমুখি হন। এই অবস্থা তাদের পেশাগত আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করে এবং স্টাফ ও রোগীদের সামনে তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি এ বিষয়টি বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আলোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।
শোয়ের পূর্বের এপিসোডে রবি এবং ড. অ্যাবটের ছাদে হওয়া হৃদয়স্পর্শী আলাপের পর, দর্শকরা আশা করছিলেন যে রবি শীঘ্রই কোনো থেরাপি সেশনে অংশ নেবে। তবে নতুন পর্বে স্পষ্ট হয়েছে, তার জন্য থেরাপি মানে শুধুমাত্র সিটিং রুমে বসে কথা বলা নয়; বরং নিজের সীমা পরীক্ষা করে, নতুন পরিবেশে নিজেকে পুনরায় গড়ে তোলার প্রক্রিয়া।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ‘দ্য পিট’ সিরিজটি শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রের পেশাদারিত্বই নয়, বরং মানবিক দুর্বলতা ও আত্ম-অনুসন্ধানের বিষয়েও আলোকপাত করছে। রবি চরিত্রের এই পরিবর্তন দর্শকদেরকে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সামাজিক স্টিগমা ভাঙতে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে যখন তিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে দেখাচ্ছেন যে “সাইকেল ভ্রমণ” ও “নিজের গতি” খুঁজে পাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
শোয়ের এই নতুন দিকটি সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, কারণ এটি বাস্তব জীবনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। একই সঙ্গে, নোয়া ওয়াইলের মন্তব্যগুলো স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে, যেখানে তিনি পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের মধ্যে সঠিক সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য পিট’ সিজন‑২‑এর চতুর্থ পর্বে ড. রবি চরিত্রের থেরাপি পদ্ধতি ও তার মানসিক সংগ্রামকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী থেরাপি তার জন্য কাজ না করায়, তিনি নিজের জন্য একটি ভিন্ন “জুম থেরাপি” হিসেবে মোটরসাইকেল ভ্রমণ বেছে নিয়েছেন, যা তার অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে সাময়িকভাবে শমনে সহায়তা করবে। নোয়া ওয়াইলের বিশ্লেষণ এই বিষয়কে আরও গভীর করে, ডাক্তারদের রোগী হিসেবে নিজেকে গ্রহণের চ্যালেঞ্জ ও ইম্পোস্টার সিনড্রোমের প্রভাবকে তুলে ধরে, যা বর্তমান সময়ের মানসিক স্বাস্থ্য আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।



