বিনোদন জগতের দুই বাংলার পরিচিত নাম জয়া আহসান, বছরের শুরুরই দিকে কলকাতার একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অনুষ্ঠানে সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) শিরোপা অর্জন করেছেন। সুমন মুখার্জি পরিচালিত ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ ছবিতে তার অনবদ্য পারফরম্যান্সকে সমালোচকগণ এই সম্মান দিয়ে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
পুরস্কার বিতরণে অংশ নেয়া টেলিভিশন চ্যানেল জি ২৪ ঘণ্টা আয়োজন করা ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ডের গৌরবময় সন্ধ্যায় জয়া আহসানকে হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কলকাতার বিনোদন জগতের বহু প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন, যা এই স্বীকৃতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ ছবিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং সুমন মুখার্জি পরিচালনা করেছেন। ছবির কাহিনী দশকের আগে গ্রামের জীবনের জটিলতা ও মানবিক সম্পর্ককে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে, যেখানে প্রতিটি চরিত্রের গভীরতা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। জয়া আহসানের চরিত্রটি গ্রামবাংলার শক্তিশালী নারীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
জয়া আহসান তার স্বীকৃতির খবরটি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। পোস্টে তিনি এই সম্মান পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই মুহূর্তে অভিভূত বোধের কথা উল্লেখ করেন। তার প্রকাশে দেখা যায়, এই পুরস্কার তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অভিনয় জীবনের একটি বিশেষ কাজ হিসেবে তিনি ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’কে উল্লেখ করেন। চরিত্রের গভীরতা ও আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশকে তিনি সমালোচকদের নজরে আসার মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই ভূমিকা তার শিল্পীসত্তার নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং তিনি এই স্বীকৃতিতে আনন্দিত।
চলচ্চিত্রে জয়া আহসানের সঙ্গে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা আবির চ্যাটার্জি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন। দুজনের পারস্পরিক অভিনয় মিথস্ক্রিয়া ছবির গল্পকে সমৃদ্ধ করেছে, যেখানে অতীতের সামাজিক প্রেক্ষাপটকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই সমন্বয় দর্শকদের মধ্যে অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের অনুভূতি জাগ্রত করেছে।
গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে জয়ার চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামবাংলার এক চিরচেনা কিন্তু শক্তিশালী নারীর রূপ ফুটে উঠেছে। সমালোচকরা এই চরিত্রকে সমাজের পরিবর্তনশীল রূপের প্রতীক হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং জয়া আহসানের অভিনয়কে সূক্ষ্ম ও প্রভাবশালী বলে প্রশংসা করেছেন। তার পারফরম্যান্সকে বছরের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পুরস্কার জয়ের পর সমালোচকগণ জয়া আহসানের বহুমুখী অভিনয়কে নতুন এক স্তরে পৌঁছানোর সূচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি পূর্বে বহুবার সেরা অভিনেত্রীর শিরোপা পেয়েছেন, তবে প্রতিবারই নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। এই স্বীকৃতি তার শিল্পীসত্তার মুকুটে আরেকটি উজ্জ্বল পালক যুক্ত করেছে।
অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পপরিচালকদের মন্তব্যে দেখা যায়, জয়া আহসানের এই সাফল্য বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের গর্ব বৃদ্ধি করে এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করে।
‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এখন কেবল ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। দর্শকরা জয়া আহসানের শীর্ষ পারফরম্যান্সকে বড় পর্দায় দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ছবির মুক্তি হলে উভয় দেশের সিনেমা প্রেমিকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



