স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রামা বিভাগে ‘ইউনিয়ন কাউন্টি’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অভিনেতা উইল পল্টার এবং নোয়া সেন্টিনিও প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেখানে তারা ওহাইওর গ্রামীণ এলাকায় অপিওইড আসক্তি থেকে পুনরুদ্ধার করা দুই ভিন্ন স্বভাবের ভাইয়ের চরিত্রে রূপান্তরিত হয়। চলচ্চিত্রটি ড্রাগ পুনর্বাসন প্রোগ্রামের বাস্তব পরিবেশে রচিত, যা অপিওইড সমস্যার গভীরতা তুলে ধরে।
এই চলচ্চিত্রটি পরিচালক-লেখক আদাম মিক্সের ২০২০ সালের ১৪ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক রূপ। স্বল্পদৈর্ঘ্যটি একই বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল, আর এখন মিক্স দীর্ঘায়িত সংস্করণে গল্পের স্তর বাড়িয়ে দেখিয়েছেন।
উইল পল্টার যাঁকে নীরব ও আত্মবিশ্বাসী তরুণের ভূমিকায় দেখা যায়, তিনি অতীতের ভুলের বোঝা বহন করে এখন পরিষ্কার পথে চলার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন। অন্যদিকে নোয়া সেন্টিনিও যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তিনি উচ্ছল ও অস্থির স্বভাবের, যার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত। দুই চরিত্রের বৈপরীত্যই চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণ গড়ে তুলেছে।
চিত্রনাট্য তৈরির সময় মিক্স প্রকৃত পুনর্বাসন প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারী ১৮ মাসের সোব্রিয়েটি সাপোর্ট গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এই অ-প্রফেশনাল অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের গল্প সরাসরি ক্যামেরায় উপস্থাপন করেছেন, ফলে চলচ্চিত্রে স্বাভাবিকতা ও বাস্তবতার মাত্রা বেড়েছে। অভিনেতা ও অ-অভিনেতাদের মিশ্রণ গল্পকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
মিক্সের এই প্রকল্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ রয়েছে; তিনি নিজেই ছোট শহরের পরিবেশে বড় হয়েছেন এবং স্থানীয় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত। এই পারিবারিক বন্ধনই চলচ্চিত্রে নীল-কলার সমাজের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করেছে।
‘ইউনিয়ন কাউন্টি’ স্যান্ড্যান্সের ইউ.এস. ড্রামাটিক কম্পিটিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সাহীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উৎসবে চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটের সময়সীমা নিয়ে প্রদর্শিত হয়েছে, যা স্বল্পদৈর্ঘ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দীর্ঘ।
দীর্ঘায়িত সময়সীমা চলচ্চিত্রকে আরও বিস্তৃত পটভূমি ও চরিত্রের গভীরতা প্রদান করেছে, তবে একই সঙ্গে কিছু অংশে গতি ধীর হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে কিছু দৃশ্যে মনোভাবের একঘেয়েমি দেখা যায়, যা দর্শকের মনোযোগকে ক্ষণিকের জন্য বিচ্যুত করতে পারে।
চিত্রের শক্তি তার অপ্রস্তুততা ও স্বচ্ছতা থেকে উদ্ভূত। বাস্তব পুনর্বাসন গ্রুপের সদস্যদের স্বাভাবিক কথোপকথন ও দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে অপিওইড সমস্যার সামাজিক প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। অভিনেতা পল্টার ও সেন্টিনিও এই পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে মিশে গিয়ে চরিত্রের মানসিক জটিলতা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, স্বল্পদৈর্ঘ্য সংস্করণে মাত্র ১৪ মিনিটে বহুস্তরীয় গল্প বলা হয়েছিল, যা সংক্ষিপ্ত সময়ে শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছিল। দীর্ঘ সংস্করণে অতিরিক্ত দৃশ্য যুক্ত হওয়ায় গল্পের গভীরতা বাড়লেও, কিছু অংশে বর্ণনা অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে ধীরগতির অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
চিত্রে অন্যান্য অভিনেতা এলিস কিবলার, এমিলি মেড, অ্যানেট ডেও, ড্যানি ওলোহান এবং কেভিন পি. ব্রাইগেরাও অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের পারফরম্যান্সও গল্পের সামগ্রিক টোনকে সমর্থন করেছে এবং স্থানীয় পরিবেশের স্বরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সর্বোপরি, ‘ইউনিয়ন কাউন্টি’ অপিওইড আসক্তি ও পুনর্বাসনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা ওহাইওর গ্রামীণ সমাজের সমস্যাকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রটি বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মিত হওয়ায় দর্শকদের জন্য একটি চিন্তাশীল ও প্রভাবশালী অভিজ্ঞতা প্রদান করে। অপিওইড সমস্যার গভীরতা বুঝতে ইচ্ছুক দর্শকদের জন্য এটি একটি মূল্যবান কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



