নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আজহারুল ইসলাম মান্নান, ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের পার্শ্ববর্তী নির্বাচনী সমাবেশে শামীম ওসমানের দেশ ত্যাগের অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেন। শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য, সম্প্রতি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার খবরের পর মান্নান তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ভোটারদের সরাসরি মোকাবিলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রধান বক্তা মান্নান, শামীম ওসমানকে ‘ঘোষণার মাধ্যমে না খেলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন’ বলে সমালোচনা করেন এবং তার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে ভোটারদের অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শামীম ওসমান যদি সত্যিকারের সাহস রাখেন, তবে এখনই মাঠে এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হওয়া উচিত, কারণ জনগণ তার কাজকে স্বীকার করবে না।
মান্নান তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, তিনি যদি নির্বাচিত হন, তবে সিদ্ধিরগঞ্জে সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি এবং ভূমি দস্যুদের কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তার লক্ষ্য হল একটি সমসাময়িক হাসপাতাল, একটি নতুন স্কুল এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যাতে স্থানীয় তরুণরা দূরবর্তী শহরে না গিয়ে নিজ ঘরে শিক্ষার সুবিধা পায়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খোকন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আয়েশা আক্তার দিনা, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপি সদস্য বিএম ডালিম, থানা বিএনপির প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রিপন সরকার, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ অপু, ৮ নম্বর বিএনপির প্রাক্তন সভাপতি শেখ সামছুদ্দিন এবং প্রাক্তন সংগঠনিক সম্পদাক মাছুম প্রধানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এই সমাবেশটি আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। মান্নানের কঠোর ভাষা এবং উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি শামীম ওসমানের অনুপস্থিতি কাজে লাগিয়ে ভোটারদের সমর্থন জোরদার করার লক্ষ্য বহন করে। অন্যদিকে, শামীম ওসমানের অনুপস্থিতি ও তার পালানোর খবর বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএনপি প্রার্থী মান্নান উল্লেখ করেন যে, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন, এবং তিনি এই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটারদের সরাসরি সেবা প্রদান করতে ইচ্ছুক। তিনি আরও বলেন, যদি জনগণ তার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে, তবে সিদ্ধিরগঞ্জের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
সমাবেশের সমাপ্তিতে মান্নান ভোটারদের কাছে আবেদন করেন যে, তিনি যদি নির্বাচিত হন, তবে তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এলাকার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করবেন। তিনি শেষ কথা বলেন, “সিদ্ধিরগঞ্জের ভবিষ্যৎ গড়তে আপনারা আমার সঙ্গে থাকবেন, আর আমি আপনার প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” এই বক্তব্যের পর সমাবেশটি সমাপ্ত হয়, এবং উপস্থিত সবাই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত দেন।



