বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা, আইজিপি বাহারুল আলম, ৩৫ বছরের সেবা শেষে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন এবং নির্বাচনের দিন ভোট দিতে পারবেন। এই পদক্ষেপটি নির্বাচন কমিশনের নতুন পোস্টাল ব্যালট উদ্যোগের অংশ, যা দূরবর্তী এলাকায় থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে।
বাহারুল আলম বৃহস্পতিবার মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানান, তার পুরো কর্মজীবনে বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার কারণে নিজের ভোটার এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করার সময় নিজের বাসস্থানের ভোটার সেকশনে উপস্থিত হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। ফলে, পূর্বে তিনি ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারেননি।
আইজিপি আরও ব্যাখ্যা করেন, অন্য জেলায় কর্মব্যস্ততা এবং দায়িত্বের চাপের কারণে কখনোই ভোটের জন্য সময় বের করতে পারেননি। তবে নির্বাচন কমিশনের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা এখন তার জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ এইবার ভোট দিতে পারব এবং এই সুযোগের জন্য কমিশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালটের চালু হওয়া নিয়ে তিনি আরো যোগ করেন, এই ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে ভোটদান করা কঠিন হওয়া অনেক পুলিশ সদস্যের জন্যও সুবিধা এনে দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ কর্মীরাও এখন তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার সহজে ব্যবহার করতে পারবে, যা পূর্বে সম্ভব ছিল না। এই পরিবর্তনকে তিনি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার রক্ষার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের মূল দায়িত্ব দেশের নিরাপত্তা ও মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, এবং এই দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে ভোটের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি পোস্টাল ব্যালটকে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ। এই ব্যবস্থা ভোটারদের বাড়ি থেকে ভোটপত্র পাঠিয়ে ভোটদান সহজ করে, বিশেষত যারা কাজের কারণে ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না। কমিশন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে পুলিশ ও অন্যান্য সেবা কর্মীর ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়াবে। তারা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ভোটদান বাড়লে ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, এই উদ্যোগের ফলে ভোটার তালিকায় নতুন নামের সংযোজনের ফলে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক ভোটার অংশগ্রহণের হারকে প্রভাবিত করবে।
আইজিপি বাহারুল আলমের পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধনকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তিনি আশাবাদী যে, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের সব স্তরের নাগরিকের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত হবে। শেষ পর্যন্ত, দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।



