জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ত্রয়োদশ পর্যায়ে জামায়াত-এ-ইসলামি শিবিরের প্রাক্তন শীর্ষ নেতাদের বিশাল দলকে প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। শিবিরের ১৮জন প্রাক্তন নেতা, যার মধ্যে ১৬জনকে জামায়াত-এ-ইসলামি মনোনয়ন করেছে, তারা ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এদের অধিকাংশই প্রথমবারের মতো ভোটের মাঠে নামছে, যা দলের প্রার্থী প্রোফাইলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।
জামায়াত-এ-ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ প্রার্থী নতুন মুখ, যাঁরা পূর্বে কখনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। তবে শিবিরের অভিজ্ঞ নেতাদের অংশগ্রহণের সংখ্যা বাড়ার ফলে দলের অভ্যন্তরে পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। এই মিশ্রণ দলকে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে।
প্রাক্তন শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত ১৬জন নেতাকে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী হিসেবে নামকরণ করেছে। তাদের মধ্যে ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, যিনি বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় নায়েব আমিরের পদে আছেন। তিনি কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
শিবিরের ১৯৯৪-১৯৯৫ সালের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান, বর্তমানে জামায়াত-এ-ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত। তার রাজনৈতিক যাত্রা শিবিরের নেতৃত্ব থেকে শুরু হয়ে এখন পার্টির উচ্চপদে পৌঁছেছে।
ঢাকা-১২ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী হিসেবে দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. সাইফুল আলম নাম তালিকায় রয়েছে। তিনি ১৯৮৩ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন পার্টির মূল কাঠামোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
ময়মনসিংহ-৫ আসনে প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মো. মতিউর রহমান আকন্দের নাম রয়েছে। তিনি ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে শিবিরের সভাপতি ছিলেন এবং এখন পার্টির প্রচার কার্যক্রমে দায়িত্বে আছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, যিনি ২০০১-২০০২ সালে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির পদে আছেন। তার প্রার্থীতা শিবিরের পুরনো নেতৃত্বের পুনরায় নির্বাচনী মঞ্চে ফিরে আসার সূচক।
শিবিরের সাবেক দুজন সভাপতি অন্য দুই দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিপরীতে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী হিসেবে শিবিরের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসেনের নাম তালিকায় রয়েছে। এভাবে শিবিরের প্রাক্তন নেতারা বিভিন্ন পার্টির ঘাঁটিতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠন করছে।
সামগ্রিকভাবে, শিবিরের প্রাক্তন শীর্ষ নেতাদের বৃহৎ অংশের প্রার্থী ঘোষণার ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যমের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন পার্টির ভোটার আকর্ষণ বাড়াতে এবং ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয় শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে, প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং পার্টির নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরবে।



