ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে জানিয়েছেন যে রাশিয়া সরকার তার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত চুক্তি করে কিয়েভ ও অন্যান্য ইউক্রেনীয় শহরে এক সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা বন্ধ করবে। এই দাবি আসে যখন রাশিয়ার বোমা হামলা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, গরম এবং পানির সরবরাহকে বিশালভাবে ব্যাহত করেছে, ফলে শীতের তীব্রতায় লক্ষ লক্ষ মানুষ তাপের অভাবে ভুগছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের সময় তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে গিয়ে -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাবিনেট মিটিংয়ে উল্লেখ করেন, “অত্যন্ত শীতের কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভ্লাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করেছি কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে এক সপ্তাহের জন্য গুলি চালানো বন্ধ করতে।” তিনি যোগ করেন, “এটি খুবই চমৎকার হয়েছে, কারণ তিনি সম্মতি দিয়েছেন।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে তিনি রাশিয়ার শীতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “তারা কখনো এত তীব্র শীত অনুভব করেনি।”
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে শহরগুলোতে আলো, গরম এবং পানির সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাবে, যা শীতকালীন মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। সরকার জরুরি অবস্থায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার এবং গরম সরবরাহের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রাশিয়া সরকার ট্রাম্পের দাবি নিয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো নিশ্চিতিকরণ দেয়নি। তবে কিয়েভে আক্রমণ সাময়িকভাবে থামার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন। রাশিয়ার দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না থাকায় এই চুক্তির বাস্তবায়ন সময়সূচি ও শর্তাবলী স্পষ্ট নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি আমাদের জন্য আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও চাপের ওপর নির্ভর করে এই বিরতি বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, “আমরা আশা করি মার্কিন সরকার এই চুক্তি কার্যকর করতে সক্ষম হবে।”
আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী শীতের তীব্রতা বাড়বে, ফলে ইউক্রেনের বহু অঞ্চল তাপের অভাবে ভুগতে পারে। সরকার জরুরি তাপ সরবরাহের জন্য গরম কেন্দ্র চালু করা, বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক দাতাদের সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই পরিস্থিতি মানবিক সংকটকে তীব্র করে তুলছে, বিশেষ করে বয়স্ক ও রোগীজনের জন্য।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার সঙ্গে শেষবারের মতো আলাস্কায় সাক্ষাৎ ২০২৩ সালে হয়েছিল, যেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য সমঝোতা হয়নি। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের উপর বিশ্বাস রাখেন যে তিনি এই চুক্তি মান্য করবেন। তিনি বলেন, “অনেকেই বলেছিল, এই কলের কোনো ফল হবে না, কিন্তু তিনি তা করেছেন।” তবে তিনি কখন এই কথোপকথনটি করেছেন বা বিরতির সুনির্দিষ্ট শুরুর তারিখ উল্লেখ করেননি।
এই বিরতির ধারণা প্রথমে গত সপ্তাহান্তে আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় উঠে আসে। জেলেনস্কি জানান, সেই আলোচনায় উভয় পক্ষই শীতের তীব্রতা বিবেচনা করে সাময়িক আক্রমণ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। যদিও ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবু এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি এই বিরতি বাস্তবায়িত হয় তবে ইউক্রেনের মানবিক পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বস্তি পেতে পারে এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমে যেতে পারে। তবে রাশিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় এই চুক্তির স্থায়িত্ব অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপ এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের গতি এই বিরতির ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি যে ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের জন্য কিয়েভে আক্রমণ থামাবেন, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে একটি সম্ভাব্য মানবিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে রাশিয়া সরকারের স্পষ্ট নিশ্চিতিকরণ না থাকায় বাস্তবায়নের সময়সূচি ও শর্তাবলী এখনও অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতি ইউক্রেনের শীতকালীন মানবিক সংকটকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



