23 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাপেঁয়াজের দাম কমে, নাজিরশাইল চালের দাম হ্রাস; মসুর ডাল ও পোলাও চালের...

পেঁয়াজের দাম কমে, নাজিরশাইল চালের দাম হ্রাস; মসুর ডাল ও পোলাও চালের দাম বাড়ছে

ঢাকার মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, টাউন হল বাজার এবং শেওড়াপাড়া বাজারে গতকাল করা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে দশ টাকা কমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় স্থিত হয়েছে। একই সময়ে আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দামও পাঁচ টাকা হ্রাস পেয়ে ৭৫‑৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছোট দানার মসুর ডাল, লেবু এবং পোলাও চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

পেঁয়াজের দাম কমার প্রধান কারণ নতুন পেঁয়াজের সরবরাহের বৃদ্ধি। পাবনা, সাঁথিয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন উৎপাদন অঞ্চলে তাজা পেঁয়াজের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে পাইকারি ও খুচরা স্তরে দাম নিচে নামছে। সাঁথিয়ার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন ৩৩‑৩৮ টাকায়, যা এক মাস আগে প্রায় ৮৮ টাকার কাছাকাছি ছিল। উৎপাদন খরচে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকায় চাষীরা এই হ্রাসকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

সয়াবিন তেলের সরবরাহে সামান্য ঘাটতি দেখা গেছে। ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া কঠিন হলেও, দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোনো উত্থান ঘটেনি।

মসুর ডালের ক্ষেত্রে, ছোট দানার দামের গড় ১৬০‑১৬৫ টাকা, যা তিন সপ্তাহ আগে তুলনায় প্রায় বিশ টাকা বেশি। একই সময়ে মোটা দানার মসুরের দাম পাঁচ টাকা কমে ৮৫‑৯০ টাকায় স্থিত হয়েছে। এই পরিবর্তন বাজারে সরবরাহ-চাহিদার সামঞ্জস্যের ফলাফল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাজিরশাইল চালের ক্ষেত্রে দেশি ও আমদানি দু’ধরনের পণ্য বিক্রি হয়। আমদানি করা চালের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা কমে ৭৫‑৮০ টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগে দাম ৮০‑৮৫ টাকা ছিল। দেশি নাজিরশাইল চালের দাম প্রায় ৮৫ টাকার আশেপাশে, এবং নতুন দেশি চালের আগমন হলে দাম আরও কমতে পারে বলে বিক্রেতারা আশাবাদী।

মিনিকেট চালের দাম স্থিতিশীল রয়ে গেছে। রশিদ ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি ৭২‑৭৩ টাকা, সাগর ও মঞ্জুর ৮০‑৮২ টাকা, ডায়মন্ড ৮৫ টাকা এবং মোজাম্মেল ৮৫‑৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই ব্র্যান্ডগুলোতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন রেকর্ড করা যায়নি।

পোলাও চালের দাম এক মাসের মধ্যে প্রায় পঁচিশ টাকা বেড়ে গড়ে ১২০‑১২৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি মূলত চাহিদা বাড়া এবং সরবরাহের সীমাবদ্ধতার ফলে ঘটেছে।

বাজার পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট যে, পেঁয়াজের দাম কমা এবং আমদানি চালের হ্রাস মূলত সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে হয়েছে, যেখানে মসুর ডাল ও পোলাও চালের দাম বাড়া চাহিদা ও সীমিত সরবরাহের প্রভাব নির্দেশ করে।

এই প্রবণতা ভবিষ্যতে কীভাবে বিকশিত হবে তা নির্ভর করবে মৌসুমী উৎপাদন, আমদানি নীতি এবং ভোক্তাদের চাহিদার পরিবর্তনের ওপর। পেঁয়াজের দাম যদি নতুন সরবরাহের প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে আরও হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, নাজিরশাইল চালের দাম আরও কমতে পারে যদি দেশি চালের নতুন ব্যাচ বাজারে প্রবেশ করে। তবে মিনিকেট চালের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা যায়, কারণ এর উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

মসুর ডালের দামের ওঠানামা কৃষকদের উৎপাদন পরিকল্পনা ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। ছোট দানার দামের বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে, তবে মোটা দানার দামের হ্রাস কিছুটা সান্ত্বনা দেবে।

সারসংক্ষেপে, বর্তমান বাজারে পেঁয়াজ ও আমদানি চালের দাম হ্রাস, মসুর ডাল ও পোলাও চালের দাম বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো সরবরাহ-চাহিদার গতিবিদ্যা, মৌসুমী উৎপাদন এবং আমদানি নীতির সমন্বয়ে গঠিত, যা আগামী সপ্তাহে বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments