18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইস্লামিক রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইস্লামিক রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ নীতি প্রধান কজা কালাসের টুইটের পর, ইরানের ইস্লামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)কে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহীত হয় এবং আইআরজিসি-কে আল-কায়েদা ও আইএসের মতো গোষ্ঠীর সমমানের অবস্থানে রাখে। সিদ্ধান্তের পেছনে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী প্রতিবাদে সশস্ত্র দমনপীড়নের পরিপ্রেক্ষিত উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপটি ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী শাখাকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে আইআরজিসি-কে সমর্থনকারী কোনো আর্থিক লেনদেন বা সম্পদ ইউরোপীয় অঞ্চলে অবরুদ্ধ করা যাবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা সহজতর হবে।

কজা কালাস টুইটে উল্লেখ করেন, দমনপীড়ন অব্যাহত থাকলে শাসনব্যবস্থা নিজেই পতনের পথে ধাবিত হবে। তিনি ইরানের শাসনকে এমন এক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা হাজার হাজার নাগরিকের প্রাণহানি করে নিজের অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই মন্তব্যটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইয়েলও একই দিনে মন্তব্য করে বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তা কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই বার্তা প্রেরণ করা জরুরি। তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’র এই সিদ্ধান্তকে “ঐতিহাসিক” বলে প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখন থেকে ইউরোপে আইআরজিসি-সংযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা সহজ হবে, কারণ পূর্বে নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী হামলার প্রমাণ দরকার হত। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ইউরোপোলের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান দ্রুততর হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই পদক্ষেপকে “কৌশলগত ভুল” বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইউরোপ যখন ইরানের জাতীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসী সংযোগের দাবি করে, তখন তা অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করে। আরাগচি এই সিদ্ধান্তকে ইরানের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে উল্লেখ করেন।

আইআরজিসি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব রাখে। এই বাহিনী দেশের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন, পারমাণবিক প্রকল্পের তত্ত্বাবধান এবং বহু কৌশলগত শিল্পের মালিকানায় জড়িত। এর বিস্তৃত ক্ষমতা ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তে জার্মানির নেতৃত্বে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের মতো দেশগুলো একমত হয়। এই দেশগুলো একসাথে কাজ করে আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করার প্রস্তাব পেশ করে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন অর্জন করে। সমঝোতা ভিত্তিক এই পদক্ষেপটি ইউরোপের নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো আইআরজিসি-সংযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক লেনদেনের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে। এছাড়া ইউরোপোলের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং বাড়িয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পূর্বাভাস ও প্রতিরোধে সহায়তা করবে। এই ব্যবস্থা ইরানের বাহিনীর আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ককে দুর্বল করার উদ্দেশ্য বহন করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদিও আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তবুও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তি কীভাবে ইরানের পররাষ্ট্র নীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে তা সময়ই নির্ধারণ করবে, তবে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের দিক থেকে ইউরোপের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments