হ্যানি শহরে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা ২৯ জানুয়ারি ভিয়েতনাম‑ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনৈতিক বন্ধনকে নতুন স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। কস্তার এই সফরকালে দুই পক্ষ বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সহযোগিতা আরও গভীর করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা ভিয়েতনামের সাম্প্রতিক শীর্ষ নেতৃত্বের পুনর্নির্বাচনের পরপরই ঘটেছে।
কস্তা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ভিয়েতনাম ও ইইউ এখন সম্পূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই সম্পর্কের ‘গভীরতা ও বিস্তৃতি’ আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বিশেষ করে বাণিজ্য, সবুজ জ্বালানি, উন্নয়ন অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি জেনারেল সেক্রেটারি তো লামকে পুনর্বহাল করেছে, যার নেতৃত্বে দেশটি প্রবৃদ্ধি‑নির্ভর রূপান্তরের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পার্টির দ্বিবার্ষিক নেতৃত্ব সম্মেলনে পররাষ্ট্রনীতিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি ‘কেন্দ্রীয়’ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা কস্তার উল্লিখিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর থেকে ভিয়েতনাম ও ইইউর বাণিজ্যিক লেনদেন প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাণিজ্যিক উদ্বৃত্তের দ্রুত বাড়তি গতির কারণে ইউরোপের কিছু নেতার মধ্যে অসন্তোষের সুর শোনা যায়। তারা ভিয়েতনামের ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাওয়াকে পর্যবেক্ষণ করে, যা ভবিষ্যতে শুল্ক নীতি বা বাণিজ্যিক আলোচনার পুনর্বিবেচনার দরকারি হতে পারে।
ভিয়েতনামের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি সম্পর্কে বিশ্লেষণকারী এক বিশেষজ্ঞের মতে, ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা ভিয়েতনামের রপ্তানি বাজারকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বৈচিত্র্য করার কৌশলের অংশ। তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, এবং ইইউ এই লক্ষ্যে সহায়তা করতে পারে।
ইইউর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পাশাপাশি ভিয়েতনাম চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে। ২০২২ সাল থেকে প্রায় এক ডজন দেশের সঙ্গে একই ধরনের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশটি লক্ষ্যবাজার, জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার প্রভাব বাড়াতে চাচ্ছে। এই বহুমুখী কূটনৈতিক নীতি ভিয়েতনামের দীর্ঘদিনের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।
ভবিষ্যতে ভিয়েতনাম ও ইইউ উভয়ই বাণিজ্যিক চুক্তির পরিধি বাড়িয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করেছে। কস্তা উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগগুলো উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থকে সমন্বয় করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
ইইউর নেতারা যদিও বাণিজ্যিক উদ্বৃত্তের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবু ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এদিকে ভিয়েতনামের সরকার ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা深化 করার জন্য নীতি সমন্বয়, বিনিয়োগ উৎসাহ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য নতুন কর্মসূচি চালু করার সংকল্প প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, কস্তার হ্যানি সফর ভিয়েতনাম‑ইইউ সম্পর্ককে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্তরে নিয়ে এসেছে, যা বাণিজ্য, শক্তি, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। এই উন্নয়ন ভিয়েতনামের বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলকে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।



