অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ একক সেমি-ফাইনালে, ৩৮ বছর বয়সী নোভাক ডজিচেভি শুক্রবার রড লেভার আরেনায় জ্যানিক সিন্নারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ডজিচেভি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান ফর্মে সিন্নার “অবশ্যই প্রিয়তমা” এবং তিনি নিজের “এ-গেম” নিয়ে ম্যাচে প্রবেশ করবেন।
ডজিচেভি রোড লেভার আরেনায় দশটি শিরোপা জিতেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল মঞ্চ। সেমি-ফাইনালের বিজয়ী রবিবারের চূড়ান্ত ম্যাচে স্প্যানিশ শীর্ষ সিডি কার্লোস আলকারাজ অথবা জার্মান তৃতীয় সিডি আলেকজান্ডার জ্ভেরেভের সঙ্গে মুখোমুখি হবেন।
ডজিচেভি সেমি-ফাইনালে অগ্রসর হয়েছেন লোরেঞ্জো মুসেট্টির হঠাৎ আঘাতের পর তার প্রতিপক্ষের ত্যাগের ফলে, যেখানে মুসেট্টি ৬-৪, ৬-৩, ১-৩ স্কোরে ডজিচেভির দিকে এগিয়ে ছিল। পূর্বে চতুর্থ রাউন্ডে জাকুব মেন্সিকের প্রত্যাহারের ফলে ডজিচেভি কোনো বল ছোঁয়া ছাড়াই অগ্রসর হয়েছিলেন।
চতুর্থ সিডি ডজিচেভি এখন পাঁচটি ধারাবাহিক পরাজয় থেকে সিন্নারের কাছে ফিরে পেতে চান, যাতে তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের একাদশ ফাইনালে প্রবেশ করতে পারেন। গত বছর ফরাসি ওপেন এবং উইম্বলডনের সেমি-ফাইনালে সিন্নার তাকে পরাজিত করেছিল।
ডজিচেভি বলছেন, “সিন্নার এবং কার্লোস দুজনই বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ দুই খেলোয়াড়। তিনি অবশ্যই প্রিয়তমা, তবে টেনিসে কিছুই নিশ্চিত নয়।” তিনি যোগ করেন, “এই ম্যাচে আমার এ-গেম দরকার, না হলে জয় পাওয়া কঠিন হবে।” মুসেট্টির সঙ্গে তার পারফরম্যান্সে তিনি নিজের সর্বোচ্চ স্তরে না থাকায় পরিবর্তন আনতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ডজিচেভি ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকে তার ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে কাজ করছেন, যা মার্গারেট কোর্টের রেকর্ড অতিক্রম করবে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিন্নার এবং আলকারাজের উত্থান তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে; দুজনই শেষ কয়েকটি স্ল্যাম শিরোপা ভাগাভাগি করেছেন।
সিন্নার, যিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন, ম্যাচকে “খুব কঠিন” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমরা একে অপরকে ভালোভাবে জানি, তাই এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবো তা দেখতে হবে।” তিনি যোগ করেন, “ম্যাচটি ভালভাবে যেতে পারে, তবে ভুলও হতে পারে; তাই অতিরিক্ত চাপ না দেওয়াই আমার লক্ষ্য।”
সেমি-ফাইনালের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে রবিবারের ফাইনালে আলকারাজের সঙ্গে সম্ভাব্য মুখোমুখি হবে, যিনি সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন। অন্যদিকে জ্ভেরেভ, তৃতীয় সিডি, তার পূর্বের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ম্যাচে প্রবেশের সম্ভাবনা রাখেন।
ডজিচেভি ও সিন্নারের মধ্যে এই মুখোমুখি ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ উভয় খেলোয়াড়ই শীর্ষস্থানীয় র্যাঙ্কে রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ টেনিসের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
রোড লেভার আরেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি রাত ৯টায় লাইভ সম্প্রচার হবে, এবং টেলিভিশন ও অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সরাসরি দেখা যাবে। টেনিস প্রেমিকরা এই ম্যাচের ফলাফলের ওপর নজর রাখবেন, কারণ এটি পরের সপ্তাহের ফাইনালের রোডম্যাপ নির্ধারণ করবে।
ডজিচেভি উল্লেখ করেছেন, “আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেব, যাতে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারি এবং আমার ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক অর্জন করতে পারি।” সিন্নারও একইভাবে প্রস্তুত, তিনি বলছেন, “আমি শান্ত মনোভাব নিয়ে খেলতে চাই, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় চাপ না থাকে।” উভয়ই ম্যাচের গুরুত্ব স্বীকার করে প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই সেমি-ফাইনাল ম্যাচের পর, বিজয়ী রবিবারের চূড়ান্ত ম্যাচে স্প্যানিশ ও জার্মান শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা টেনিসের শীর্ষ স্তরে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।



