ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ২৯ জানুয়ারি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে উন্নত করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেন। এই সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক সংলাপকে শক্তিশালী করে পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা।
স্টারমার উল্লেখ করেন, চীন বৈশ্বিক মঞ্চে একটি প্রধান শক্তি এবং যুক্তরাজ্যের জন্য একটি পরিণত ও সমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি যোগ করেন, এ ধরনের সম্পর্কের মাধ্যমে সহযোগিতার সুযোগগুলো সনাক্ত করা এবং মতবিরোধের বিষয়গুলোতে গঠনমূলক সংলাপ চালানো সম্ভব হবে।
বৈঠকের সময়ে উভয় পক্ষ বেশ কয়েকটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য চীন মূল ভূখণ্ডে ভিসা‑মুক্ত ভ্রমণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। এই চুক্তি চীন সরকারকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভ্রমণ সহজতর করার নতুন পদক্ষেপ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
ভিসা‑মুক্ত ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যকে প্রায় পঞ্চাশটি দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে এই সুবিধা পেয়েছে। এই দেশগুলোতে ভ্রমণকারীরা সর্বোচ্চ ত্রিশ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই চীনে অবস্থান করতে পারেন।
বর্তমানে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন, তবে নতুন চুক্তি এই বাধা দূর করে। ফলে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভ্রমণ উভয়ই সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীন সরকার ২০২৩ সাল থেকে ইউরোপীয় দেশ এবং স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা‑মুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই নীতি অনুসারে, সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকরা ত্রিশ দিনের মধ্যে চীনে ভ্রমণ করতে পারবেন, যা পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
স্টারমারের এই তিন দিনের সফর ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে চীনে নিয়ে আসে। সফরের সময়ে তিনি চীনের অর্থনৈতিক নীতি, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আলোচনা করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করার কথা উল্লেখ করে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভিসা‑মুক্ত চুক্তি পর্যটন ও ব্যবসায়িক প্রবাহ বাড়িয়ে উভয় দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে কৌশলগত পার্থক্য, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক মতবিরোধ এখনও বিদ্যমান।
চীন সরকার এবং যুক্তরাজ্য উভয়ই ভবিষ্যতে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে এই পার্থক্যগুলো সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।
এই চুক্তি এবং কূটনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে, বিশেষ করে এশিয়া‑প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায়।
উল্লেখযোগ্য যে, এই ভিসা‑মুক্ত ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য চীন ভ্রমণকে সহজতর করবে, যা পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াবে। ভবিষ্যতে উভয় দেশ এই ভিত্তিতে আরও বিস্তৃত চুক্তি আলোচনার দিকে অগ্রসর হতে পারে।



