গুরুবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলায় টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থীর নির্বাচনী মিছিলের সূচনা হয় এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে। মিছিলটি স্থানীয় সড়কগুলো অতিক্রম করে পুনরায় একই বাসস্ট্যান্ডে সমাপ্তি পায়, যা পার্টির সমর্থকদের বৃহৎ অংশগ্রহণের সাক্ষ্য দেয়।
মিছিলের আগে একই বাসস্ট্যান্ডে একটি এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সমর্থক ও স্থানীয় নেতারা একত্রিত হয়ে পার্টির কর্মসূচি ও নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এই পথসভা মিছিলের মূল সূচনার পূর্বে সংগঠিত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা বৃদ্ধি পায়।
উপজেলা জামায়াত-এ-ইসলামির আমির মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সভা পরিচালিত হয়। তিনি সভার শুরুর দিকে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে পার্টির লক্ষ্য ও নির্বাচনী কৌশল সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। আলীর নেতৃত্বে সভা শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে চলতে থাকে।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মঞ্চে আসেন। তার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান বিন সিদ্দিক এবং খেলাফত মজলিস কালিহাতী উপজেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান বায়েজিদ বক্তৃতা দেন। প্রত্যেক বক্তা পার্টির নীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
আব্দুর রাজ্জাক তার ভাষণে উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াত-এ-ইসলামিকে জয়ী করতে হবে। মেহেদী হাসান বিন সিদ্দিক সামাজিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে পার্টির কর্মসূচি ব্যাখ্যা করেন। মিজানুর রহমান বায়েজিদ স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও ধর্মীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে সমর্থকদের উৎসাহ বাড়ান।
বক্তাদের সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতা করে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশল শেয়ার করেন। উপস্থিতদের মধ্যে তরুণ ও বৃদ্ধ উভয়ই সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন, যা পার্টির বিস্তৃত সমর্থন ভিত্তি নির্দেশ করে।
মিছিলের সময় কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির মন্তব্য বা উপস্থিতি রেকর্ড করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই মিছিল সম্পর্কে এখনও কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেনি। এই শূন্যতা মিছিলের পরিবেশকে মূলত জামায়াত-এ-ইসলামির দৃষ্টিকোণেই সীমাবদ্ধ রাখে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির এই ধরনের বৃহৎ মিছিল পার্টির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তারিখ এখনও সরকারীভাবে ঘোষিত হয়নি, তবে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি দ্রুত বাড়ছে। জামায়াত-এ-ইসলামি দল এই মিছিলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করছে এবং পরবর্তী সময়ে আরও সমাবেশ ও ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
মিছিলের সমাপ্তি পরেও অংশগ্রহণকারীরা বাসস্ট্যান্ডে একত্রিত হয়ে পার্টির স্লোগান গাইতে থাকে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সমর্থন বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এই ধরনের সমাবেশ স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



