18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে সংবিধান সংস্কারের মূল দিকগুলো নির্ধারিত হবে

১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কারের মূল দিকগুলো নির্ধারিত হবে

গণভোটের ফলাফল নির্ধারিত হলে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এমন একটি গণভোট, যার মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার অনুমোদন পাওয়া যাবে। ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হলে, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধান সংশোধনের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে, এবং একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলও নির্ধারিত হবে।

প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হবে, আর রাষ্ট্রপতির কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই পরিবর্তনগুলোকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়মাবলী যুক্ত করা হবে, যাতে একক দল বা গোষ্ঠীর ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তন করা কঠিন হয়।

সংবিধানিক পদে নিয়োগের পদ্ধতিও পরিবর্তিত হবে; সরকারী দল, বিরোধী দল এবং প্রয়োজনে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি এই নিয়োগগুলো অনুমোদন করবে। এই ব্যবস্থা দ্বারা সংবিধানিক পদে রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

সংসদ সদস্যদের ভোটদানের স্বাধীনতাও বাড়বে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্বে পার্টি নির্দেশনা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক ছিল, তবে নতুন বিধান অনুযায়ী সদস্যরা নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবেন, যা আইন প্রণয়নের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।

এই সংস্কারগুলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন শাখার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করার সম্ভাবনা তৈরি করবে। পাশাপাশি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্রের মূলনীতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নাগরিকদের অধিকারের পরিধি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা, এবং সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে। নতুন কাঠামোতে একক দল বা গোষ্ঠীর ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তন করা কঠিন হবে, ফলে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার প্রক্রিয়া চালু হবে।

পটভূমিতে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ফলে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয় এবং শপথ নেয়। এই সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এই ছয়টি কমিশন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশদ বিশ্লেষণ করে, মোট ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ চিহ্নিত করে, যা পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সেই সুপারিশগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য, গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ শুরু করে। ত্রিশটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে, সকল পক্ষের মতামত সংকলন করে একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এই প্রস্তাবনা এখন গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রক্রিয়া, দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কার অনুমোদিত হলে, আগামী সংসদে নতুন সংবিধানিক কাঠামো কার্যকর হবে এবং রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় নতুন ভারসাম্য গড়ে উঠবে।

অবশ্যই, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই পরিবর্তনগুলোকে সমালোচনা করে, কারণ তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় স্বাধীনতার পরিবর্তনকে নিজেদের স্বার্থের বিপরীতে দেখতে পারে। তবে সরকারী পক্ষের মতে, এই সংস্কারগুলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।

গণভোটের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার পর, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশোধনী প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। এরপর সংসদে দুইবারের বেশি ভোটের মাধ্যমে সংশোধনী গৃহীত হলে, তা জাতীয় স্তরে কার্যকর হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধানের কাঠামোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

সংবিধান সংস্কারের এই বিস্তৃত পরিকল্পনা, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে, এবং এর বাস্তবায়ন দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments