18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রচারকালে ১১৩টি সহিংস ঘটনার ফলে ৯৮১ জন আহত, পাঁচজন...

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রচারকালে ১১৩টি সহিংস ঘটনার ফলে ৯৮১ জন আহত, পাঁচজন নিহত

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের জন্য ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে, মানবাধিকার সমর্থন সমাজ (HRSS) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১৩টি সহিংস ঘটনার ফলে কমপক্ষে ৯৮১ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা অক্টোবর থেকে বর্তমান পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রচারাভিযান শুরু হওয়া আট দিনের মধ্যে, মিডিয়া রিপোর্ট এবং পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৯টি সংঘর্ষের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই ঘটনাগুলি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা জুড়ে ঘটেছে, যার মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সংঘর্ষের উল্লেখ পাওয়া যায়।

শেরপুরে বুধবার জামাতের একটি উপজেলা ইউনিটের সচিবের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়ে গেছেন। মৃতের কারণ হিসেবে গুলিবিদ্ধ হওয়া উল্লেখ করা হয়েছে, এবং এই ঘটনা শেরপুরের একটি জামাতের উপজেলা ইউনিটের সচিবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, যাকে স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দেখা হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, সংঘর্ষের মূল কারণগুলোতে স্থানীয় বিরোধ, সামাজিক মাধ্যমে ‘অপমানজনক’ মন্তব্য এবং এমনকি একটি চেয়ার নিয়ে তর্ক অন্তর্ভুক্ত। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সরাসরি শারীরিক সংঘর্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। এগুলো প্রায়ই ছোটখাটো মতবিরোধ থেকে বড় আকারের হিংসায় রূপান্তরিত হয়েছে।

HRSSের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রচারকালীন সময়ে প্রার্থীদের আক্রমণাত্মক মনোভাব, বিরোধী দল ও প্রার্থীদের প্রতি ঘৃণার ছড়িয়ে পড়া, হুমকি, গুজব এবং অবমাননাকর মন্তব্যগুলো দলীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বৈরিতা বাড়িয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে সংযম বজায় রাখতে এবং বিরোধ সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের পরিবেশ কোনো প্রকারে গ্রহণযোগ্য নয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল (অপরাধ ও অপারেশন) খন্ডকার রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সময়ের সহিংসতা নতুন নয় এবং তা স্বাভাবিক বলে গণ্য করা উচিত নয়। তিনি জনগণকে সতর্ক করেন যে, এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয় এবং যদি এই ধরণের সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা সম্ভব।

রফিকুলের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনকালে প্রায়ই সংঘর্ষের সংস্কৃতি বজায় থাকে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। গত কয়েকটি নির্বাচনে একই রকম হিংসা দেখা গিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ধারাবাহিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধরনের সংস্কৃতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পুলিশ, অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রিটার্নিং অফিসাররা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলিকে একসাথে টেবিলে বসিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য কাজ করছেন। বিশেষ দল গঠন করে, যা নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করে এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের পূর্বাভাসে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। তবে অনেকেই এই আহ্বানকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ করে।

অনেক মানুষ পরামর্শ মেনে না চলার পাশাপাশি ‘অন্যান্য এজেন্ডা’ নিয়ে কাজ করে বলে রফিকুল উল্লেখ করেন। এই মনোভাব সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নাগরিক ও সমাজসেবী সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য তৎপরতা দাবি করে।

শেরপুরের ঘটনায়, একটি ম্যানিফেস্টো পাঠের অনুষ্ঠানকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল, তবে চেয়ার নিক্ষেপ, তর্ক এবং শেষ পর্যন্ত গুলিবিদ্ধের মাধ্যমে এক প্রাণ হারিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।

পুলিশের মতে, কেবল গ্রেফতার এবং মামলা চালিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়; বিরোধী দলগুলোর স্বেচ্ছায় সংযম প্রদর্শনই সহিংসতা কমানোর মূল চাবিকাঠি। অধিকাংশ ঘটনার জন্য অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিকারদের পরিবারে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। এ জন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই ধরণের সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে, তবে নির্বাচনের ফলাফল ও গণতান্ত

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments