23 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন

মার্কিন সরকার কিউবার তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা জানিয়ে চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক্সিকিউটিভ অর্ডারে নতুন শুল্কের কাঠামো উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট হার বা লক্ষ্য দেশ স্পষ্ট করা হয়নি। এই পদক্ষেপটি ক্যারিবিয়ান দেশের ওপর চলমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ অর্ডারে শুল্কের সুনির্দিষ্ট হার বা কোন দেশগুলোকে লক্ষ্য করা হবে তা প্রকাশ না করলেও, তেল সরবরাহকারীকে লক্ষ্য করে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত স্পষ্ট। মার্কিন সরকার এই নীতি দিয়ে কিউবার জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে চায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে কিউবা ও তার কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে একাধিকবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি কিউবাকে “শীঘ্রই পতিত হবে” বলে মন্তব্য করেন এবং ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক তেল ও আর্থিক সহায়তা বন্ধের উল্লেখ করেন।

ভেনেজুয়েলা পূর্বে দৈনিক প্রায় ৩৫,০০০ ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাচ্ছিল বলে ধারণা করা হতো, তবে এখন তা বন্ধ হয়েছে। এই পরিবর্তন কিউবার জ্বালানি সরবরাহে বড় ফাঁক তৈরি করতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবার প্রতি মনোযোগ বাড়ার পেছনে ৩ জানুয়ারি ক্যারাকাসে মার্কিন বাহিনীর নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ ঘটেছে। এই ঘটনা থেকে মার্কিন নীতি কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক কঠোর করার দিকে ঝুঁকেছে।

কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রুনো রড্রিগেজ বলেছেন, কিউবার তেল আমদানি করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া তা করা উচিত। তিনি যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা জবরদস্তি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে।

শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা কিউবার তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর জন্য আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে, ফলে বিকল্প বাজার বা সরবরাহ চেইন পুনর্গঠন করতে বাধ্য হতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন-কিউবা সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক আলোচনার জটিলতা বাড়াতে পারে।

মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে কিউবার উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সীমাবদ্ধতা বাড়িয়ে চলেছে। নতুন শুল্কের হুমকি এই নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কিউবার অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে কিউবার তেল সরবরাহের গতি ও দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন হতে পারে, এবং মার্কিন-ল্যাটিন আমেরিকান সম্পর্কের সামগ্রিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো শুল্কের হার ও লক্ষ্য দেশ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।

কিউবার তেল আমদানি নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকিকে বাণিজ্যিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে কয়েকটি দেশ মার্কিনের নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকার করে সমর্থন জানিয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসও শুল্ক প্রস্তাবের ওপর নজর রাখছে। কিছু আইনপ্রণেতা শুল্কের প্রভাব কিউবার মানবিক পরিস্থিতি ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর কী হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিতে শুল্ককে কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কৌশলগত সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কিউবা সরকার ইতিমধ্যে বিকল্প তেল সরবরাহকারী দেশ অনুসন্ধান শুরু করেছে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। ব্রুনো রড্রিগেজের মন্তব্যে দেখা যায় কিউবা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বাধীনভাবে জ্বালানি সংগ্রহের অধিকার বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই পদক্ষেপগুলো শুল্ক হুমকি মোকাবেলায় কিউবার কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্দেশ করে।

শুল্কের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হলে কিউবার তেল আমদানি খরচ বাড়বে, যা দেশের জ্বালানি মূল্য ও জনসাধারণের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে। এটি কিউবার সরকারকে তেল ভোগের বিকল্প উৎস ও শক্তি সঞ্চয়ের নীতি ত্বরান্বিত করতে বাধ্য করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments